
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের হিদিয়া এ,এন,এইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না এবং ইচ্ছেমতো আসা-যাওয়া করেন। যশোর শহরের নীলগঞ্জে বসবাসের কারণে প্রায়ই স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন। হাজিরা খাতার তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে তিনি কোনো ধরনের ছুটি ছাড়াই অন্তত তিনদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, গত ২৮ জুলাই (মঙ্গলবার) বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে তিনি যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাসভবনের সামনে সংঘটিত এক বিক্ষোভে অংশ নেন। ওই সময় তার করা কিছু আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। ভিডিও ফুটেজে তাকে বলতে শোনা যায়, এমপি গোলাম রসুল মেয়ে দিয়ে ব্যবসা করেন। তার মেয়ে নেশা করেন। পুলিশ ব্যবস্থা নিতে না পারলে আমাদের হাতে তুলে দিক, আমরাই বিচার করবো। এই বক্তব্যের কারণে শিক্ষক সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবে, পরবর্তীতে তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বলেও জানা গেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একাংশের মতে, একজন প্রধান শিক্ষকের মূল দায়িত্ব হলো শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা। কিন্তু দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া পেশাগত নৈতিকতার পরিপন্থী। স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, প্রধান শিক্ষক যদি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকেন, তাহলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একজন শিক্ষক সমাজের আদর্শ হওয়া উচিত, তার কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহনাজ পারভীন বলেন, আমি ডিসি অফিসে কাজে গিয়েছিলাম। আমাদের কোনো পরিচালনা কমিটি নেই, তাই ছুটি নেওয়া হয়নি। তবে এমপির বাসভবনের সামনে উপস্থিত থাকার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। এদিকে, শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত বিধিমালা রয়েছে। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকতে হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও নিয়ম অনুযায়ী ছুটি গ্রহণ বাধ্যতামূলক। এর ব্যত্যয় হলে তা তদন্তসাপেক্ষ শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দিন দীপু বলেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার জন্য কোনো লিখিত আবেদন জমা দেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তুমুল আলোচনা চলছে। সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় এবং শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে দ্রুত তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।