
নিজস্ব প্রতিবেদক
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে নতুন করে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও, অনেকের ধারণা, সাবেক জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানকে ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
পোস্টে আসিফ লেখেন, দেশের গ্রেট প্লেয়ার হিসেবে তার প্রতি সিমপ্যাথি ছিল। আসলে সে খুনীর প্রমাণিত দোসর, ফ্যাসিস্ট। বিলম্বিত বোধোদয়ের জন্য আমি লজ্জ্বিত, দুঃখিত, ক্ষমাপ্রার্থী।
এই মন্তব্য প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে সাকিব আল হাসানের অংশগ্রহণের বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করে থাকতে পারেন আসিফ। যদিও পোস্টে তিনি সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ করেননি, তবুও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোরালো বিতর্ক। এর আগে বিভিন্ন সময় সমসাময়িক নানা ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন আসিফ আকবর। এবারও তার বক্তব্য ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তীব্র সমালোচনাও করছেন। এদিকে একই সময়ে সাকিব আল হাসানকে ঘিরে আরেকটি ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে মাগুরা শহরের কেশব মোড় এলাকায় অবস্থিত তার পৈতৃক বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, ককটেল সদৃশ বস্তু ছোড়া এবং আগুন দেওয়ার চেষ্টা করে। হামলাকারীরা মূল ফটকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে গেটের কিছু অংশ পুড়ে যায় এবং জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়। তবে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিকভাবে অগ্নিসংযোগের আলামত পায়। ধারণা করা হচ্ছে, মোটরসাইকেলে করে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত এ হামলা চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) খন্দকার খাইরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
তবে আসিফ আকবরের বিতর্কিত স্ট্যাটাস এবং মাগুরার হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাকিব আল হাসান বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
একদিকে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র ভাষার মন্তব্য, অন্যদিকে মাঠের বাইরে সহিংস ঘটনা, সব মিলিয়ে সাকিবকে ঘিরে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।