1. live@dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com
  2. info@www.dailyjagrotobd.com : - :
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ছাত্রের কান্ড দুই ছাত্রীকে মূত্র মেশানো পানি পান করানোর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক বললেন চকলেট খাও ভালো লাগবে। বাবা ও প্রেমিকের সহায়তায় পর্নোগ্রাফি ব্যবসা, ডিবির জালে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া একাই ১৩০ মামলার আসামি, অবশেষে র‍্যাবের হাতে নিশাত প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ, জামায়াত নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি অভয়নগরে ৮০ ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী লিপি আটক অভয়নগরে সরকারি রাস্তার ইট, ব্যক্তির জমি, অভিযোগের তীর ইউপি সদস্য হালিম শেখের বিরুদ্ধে  এবার ১০ দিনের আলটিমেটাম দিল শুভেন্দুকে ককরোচরা তদন্ত শুরুর আগেই সাক্ষী নির্ধারণের অভিযোগ চট্টগ্রামে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ফের জলাবদ্ধতা, ডুবল জামালখানও কুড়িগ্রামে লাঠি হাতে আন্দোলনে প্রাথমিকের শিশু শিক্ষার্থীরা

অভয়নগরে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় একজন শিক্ষার্থীর দাখিল পাস

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

২১ মাদ্রাসায় বছরে সরকারের ব্যয় ১০ কোটি ৮ লাখ টাকা, পাস করেছে মাত্র ২৩৪ জন, শিক্ষার মান নিয়ে বড় প্রশ্ন

যশোরের অভয়নগরে সরকারি এমপিওভুক্ত ২১টি দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ বছরে সরকারের ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অথচ ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করেছে মাত্র ২৩৪ জন শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে একজন শিক্ষার্থীকে দাখিল পাস করাতে সরকারের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা। অর্থাৎ, শুধু শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার হিসাব ধরলেই অভয়নগরের এমপিওভুক্ত দাখিল মাদ্রাসাগুলোতে একজন শিক্ষার্থীর দাখিল পাসের পেছনে সরকারের খরচ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। এই চিত্র সরকারি অর্থের ব্যবহার, শিক্ষার মান, শিক্ষার্থী ধরে রাখা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অভয়নগরে বর্তমানে ২১টি এমপিওভুক্ত দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন প্রায় ৩০০ জন।

জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী শিক্ষক-কর্মচারীদের গড় মাসিক বেতন-ভাতা ২৪ থেকে ২৮ হাজার টাকা ধরে হিসাব করলে ২১টি প্রতিষ্ঠানে সরকারের মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৮৪ লাখ ৪ হাজার টাকা।

বার্ষিক হিসাবে মূল বেতন বাবদ ব্যয় প্রায় ৮ কোটি ৭৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এর সঙ্গে দুই ঈদ বোনাস, বৈশাখী ভাতা ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে আরও প্রায় ১ কোটি ৩১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা যোগ হলে বছরে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ১০ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় ২১টি মাদ্রাসা থেকে পাস করেছে মাত্র ২৩৪ জন।

হিসাব বলছে, ১০ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা  ২৩৪ জন প্রায় ৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থীকে দাখিল পাস করাতে শুধু শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ সরকারের ব্যয় প্রায় ৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা। শুধু মূল বেতন বিবেচনায় নিলেও একজন পাসকৃত শিক্ষার্থীর পেছনে ব্যয় প্রায় ৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

বেতন-ভাতার বাইরেও রয়েছে সরকারি খরচ

এখানেই শেষ নয়। উপরের হিসাবের মধ্যে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, বিনামূল্যের পাঠ্যবই, মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ ও সংস্কার, বিদ্যুৎ-পানি, শিক্ষা উপকরণ, পরীক্ষাসংক্রান্ত ব্যয় এবং বিভিন্ন সরকারি অনুদান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অর্থাৎ, এসব খাত যোগ করলে একজন দাখিল পাস শিক্ষার্থীর পেছনে সরকারের প্রকৃত ব্যয় আরও অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এত বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল কোথায়? কমছে শিক্ষার্থী, বাড়ছে সরকারি ব্যয়ের চাপ সংশ্লিষ্টদের মতে, অভয়নগরের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। অনেক অভিভাবক এখন সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও সুবিধা এবং বেতন-ভাতার সরকারি ব্যয় বহাল থাকছে।

এতে একদিকে যেমন সরকারের আর্থিক দায় বাড়ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। একজন শিক্ষাবিদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা থাকলেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হয় না। শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষকদের জবাবদিহি, ফলাফল এবং ঝরে পড়া রোধ, সবকিছুর ওপর নজরদারি প্রয়োজন। প্রতি মাদ্রাসায় ৫০ জন পাস করানো গেলে ব্যয় অর্ধেকে নামবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাদ্রাসা সুপার বলেন, সরকারি বেতন-ভাতা পাওয়ার পরও অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। অভিভাবকদের একটি বড় অংশ সাধারণ শিক্ষার দিকে ঝুঁকছেন। যশোর শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, মাথাপিছু সরকারি ব্যয় বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো পাসের সংখ্যা কম। প্রতি মাদ্রাসা থেকে গড়ে ৫০ জন শিক্ষার্থী পাস করলে মাথাপিছু ব্যয়ের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু পাসের সংখ্যা বাড়ানোই কি সমাধান, নাকি শিক্ষার প্রকৃত মানও নিশ্চিত করতে হবে?

শিক্ষক নিয়োগ ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদ্রাসাগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের মান, নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, শিক্ষকদের উপস্থিতি, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদান এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করা জরুরি। কারণ সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ার পরও যদি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে এবং ফলাফল আশানুরূপ না হয়, তাহলে কোথায় ঘাটতি, শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা, পাঠদান নাকি নজরদারিতে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

উপজেলা শিক্ষা অফিস বলছে মনিটরিং বাড়ানো হচ্ছে এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও মনিটরিং বাড়ানো হচ্ছে। আশা করি সামনের বছর পাসের হার বাড়বে।

তবে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, আশা’র ওপর কতদিন চলবে সরকারি অর্থে পরিচালিত এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান?

সরকার যখন প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, তখন সেই অর্থের বিপরীতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মঘণ্টা, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার, সবকিছুর নিয়মিত মূল্যায়ন ও জবাবদিহি থাকা জরুরি। তথ্য বলছে, এখনই প্রয়োজন কঠোর অডিট ও ফলাফলভিত্তিক নজরদারি অভয়নগরের ২১টি এমপিওভুক্ত দাখিল মাদ্রাসার সামগ্রিক চিত্র সামনে এনে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিষ্ঠানভিত্তিকভাবে অন্তত পাঁচটি বিষয়ে জরুরি অনুসন্ধান হওয়া দরকার, কোন মাদ্রাসায় কতজন শিক্ষক-কর্মচারী এবং বিপরীতে কতজন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত ৫ বছরের দাখিল পরীক্ষার ফলাফল ও পাসের প্রবণতা। শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও পাঠদানের বাস্তব চিত্র। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার এবং এর কারণ। সরকারি বেতন-ভাতার পাশাপাশি অবকাঠামো, উপবৃত্তি, বই ও অন্যান্য খাতে মোট সরকারি ব্যয়ের পরিমাণ। এসব তথ্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিকভাবে বিশ্লেষণ করা গেলে স্পষ্ট হবে, কোন প্রতিষ্ঠান সত্যিকার অর্থে শিক্ষা দিচ্ছে আর কোন প্রতিষ্ঠান কেবল সরকারি অর্থের ওপর টিকে আছে। অভয়নগরের ২১টি দাখিল মাদ্রাসায় বছরে ১০ কোটি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা শিক্ষক-কর্মচারীদের পেছনে ব্যয় হওয়ার পরও যদি এক বছরে পাস করে মাত্র ২৩৪ জন, তাহলে এই বিপুল সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা কি অস্বাভাবিক? সরকারি অর্থে শিক্ষা, কিন্তু ফলাফলে এত ঘাটতি কেন? জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট