
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের মাইকপট্টি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মিম নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাজী তাজের আলী মার্কেটের চতুর্থ তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ দিন আগে ওই তরুণী হাজী তাজের আলী মার্কেটের চতুর্থ তলায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সোমবার কয়েকজন বান্ধবী মুঠোফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো সাড়া পাননি। পরে তারা ওই বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার দরজা খুলে ভেতর থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে রাতেই মরদেহটি যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। দাম্পত্য জীবনে চলছিল টানাপোড়েন তরুণীর পরিচিত ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্বামী বর্তমানে প্রবাসে থাকায় তাদের অধিকাংশ সময় মুঠোফোনেই যোগাযোগ হতো। সম্প্রতি তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল বলে জানিয়েছেন তার এক সহকর্মী। তবে এই দাম্পত্য টানাপোড়েনের সঙ্গে তরুণীর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চাকরি হারানোর পর থেকেই কি মানসিক চাপ? মিম যশোরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে চলতি মাসের ১ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। কর্মক্ষেত্রে অন্যমনস্কতা ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।
চাকরি হারানো, পারিবারিক বিষয় ও দাম্পত্য টানাপোড়েন—এসবের কোনোটি তার মৃত্যুর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই মিলবে মৃত্যুর কারণ
কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে তরুণীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তরুণীর মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয়রা।