
নিজস্ব প্রতিবেদক, অভয়নগর (যশোর):
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে এক সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরির এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. বদরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এবং কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম না মেনে এই কাল্পনিক প্রত্যয়নপত্রটি তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় লেবার সর্দার এমএম ফারুক হোসেনের সাথে একজন সংবাদকর্মীর চাঁদাবাজি মামলাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের কতিপয় স্বার্থান্বেষী নেতা এবং একটি কুচক্রী মহল এই ষড়যন্ত্রের জাল বোনে। নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে লিখিত আবেদন ও দুই পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানির বিধান থাকলেও এই ক্ষেত্রে সর্দার ফারুক হোসেন ও সাংবাদিক বদরুজ্জামানের কোনো লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি অভিযুক্ত সাংবাদিক মো. বদরুজ্জামানকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে, কোনো প্রকার নোটিশ না দিয়ে অত্যন্ত গোপনে এই প্রত্যয়নপত্রটি তৈরি ও সরবরাহ করা হয়। এর ফলে ওই সাংবাদিকের পেশাগত ও সামাজিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করা হয়। সম্প্রতি এই ঘটনার পেছনের মূল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে একটি কল রেকর্ড ফাঁসের মাধ্যমে। নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফরের কাছে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. বদরুজ্জামান মুঠোফোনে এই প্রত্যয়নপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জালিয়াতির সত্য ঘটনাটি অকপটে স্বীকার করেন।
ফাঁস হওয়া অডিওতে সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফরকে স্পষ্ট বলতে শোনা যায়, “ওটা ওনারা সব নিজেদের মতো করায়ে নিছে। হারুন ওটা ওরে দিয়ে নিজে করায়ে নিছে, আমারে কিন্তু জানায়নি। পরে চার-পাঁচ দিন পর আমারে বলছে, ভাই আমরা একটা অন্যায় করে ফেলছি। আপনার নামে, আর সভাপতি ভাইয়ের নামে আপনার নাম দিয়ে আমরা একটা প্রত্যয়ন লিখে দিয়ে দিছি।” মোজাফ্ফর আরও বলেন, “এটা হারুন আর ফারুকের কাজ, ওরাই এটা করায়ে নিছে। আমার সাথে গেম খেলেছে ফারুক। আল্লাহর কসম করে বললাম, আমি এই কথা বলেছি।
ভুয়া প্রত্যয়নপত্রটিতে দাবি করা হয়েছিল যে, জমি বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা আর্থিক লেনদেন নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক হয়েছিল এবং বদরুজ্জামান সেই টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত অমান্য করেছেন। কিন্তু খোদ সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফরের ফোনালাপের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, বাস্তবে এ ধরনের কোনো অপরাধ বা নীতিগর্হিত ঘটনা ঘটেনি। সর্দার ফারুক হোসেন নিজের স্বার্থ হাসিল করতে এবং তথাকথিত সাংবাদিক হারুনকে ব্যবহার করে সাংবাদিক বদরুজ্জামানকে ঘায়েল করতে এই কাল্পনিক ও বানোয়াট গল্প সাজিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই ভুয়া নথির ওপর ভিত্তি করে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে হয়রানি করার অপচেষ্টা চালানো হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. বদরুজ্জামান এই ভুয়া প্রত্যয়নপত্রের ব্যাপারে এতদিন কিছুই জানতেন না। সাংবাদিকতার মতো একটি মহৎ পেশার নীতি ও আদর্শকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা প্রেসক্লাবের নাম ভুয়াভাবে ব্যবহার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে এখন তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা মনে করছেন, যেহেতু প্রেসক্লাবের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফর নিজেই স্বীকার করেছেন যে এটি হারুনের করা একটি জালিয়াতি, অন্যায় ও সাজানো নাটক ছিল, তাই সাংবাদিক মো. বদরুজ্জামান সম্পূর্ণ নির্দোষ। একই সাথে, আর্থিক বা অন্য কোনো সুবিধার বিনিময়ে প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে এমন ভুয়া কাগজপত্র তৈরির সাথে জড়িত মূল হোতা হারুন ও ফারুকের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।