
নিজস্ব প্রতিবেদক
ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে পুলিশের ঘেরাও, পরিবারের ফোন জব্দ, ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি, অফিসে হামলা ও ৩৫ লাখ লুটের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন, যিনি ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করতে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দিনভর ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। রাত পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় পুলিশি তৎপরতা জোরদার রয়েছে। জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানের শুরুতেই ইমনের পরিবারের কয়েকজন সদস্যের মোবাইল ফোন জব্দ করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে এখনো পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের বাসিন্দা ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে সক্রিয়। তিনি ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে, ২০২৫ সালের বাকলিয়ার জোড়া খুন, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি, না দিলে হামলা।
সম্প্রতি নগরের চকবাজার এলাকার ‘ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)’ নামের একটি ইন্টারনেট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ডেভিড ইমন এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোমবার (১৩ জুলাই) ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রকাশ্য দিবালোকে ওই প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। এসময়, অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয় নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নেওয়া হয় ঘটনার অডিও রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশের বিশেষ টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে অভিযান শুরু করে। পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং খুব শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।