
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নে আলিনুর ফকির (৩২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৮ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার কুমড়ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আলিনুর ফকির একই এলাকার আব্দুল হাই ফকিরের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রাতের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে থাকতে দেখেন। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে পূর্বপরিকল্পিত হামলা বলে ধারণা করছেন। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লোহাগড়া থানা পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলটি তুলনামূলক নির্জন হওয়ায় হামলাকারীরা সহজেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় ছোটখাটো বিরোধ ও উত্তেজনা বাড়ছিল।
পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নড়াইলের লোহাগড়ায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এখন প্রশাসনের বড় চ্যালেঞ্জ।