
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের বহুল আলোচিত এরশাদ এতিমখানায় ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সাধারণ সভা ছাড়াই একতরফাভাবে কমিটি গঠন, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আধিপত্য এবং অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্ববর্তী আ.লীগ সরকারের সময় থেকেই এতিমখানাটি একটি দলীয় প্রভাববলয়ের মধ্যে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তখনকার প্রভাবশালী নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হতো। সরকার পরিবর্তনের পর সেই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হওয়ার কথা থাকলেও, সভাপতি হিসেবে আ.লীগ নেতা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বহাল থাকেন। অভিযোগ উঠেছে, নতুন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কোনো সাধারণ সভা আহ্বান না করেই তিনি নিজের নেতৃত্বে একটি ‘মনগড়া’ কমিটি তৈরি করে অভয়নগর উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সরকারি অনুদাননির্ভর এই এতিমখানায় এতিম শিশুদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। বরং একক আধিপত্য বজায় রাখতে সভাপতি নিজের ইচ্ছামতো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিটিতে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ নতুন গঠিত কথিত কমিটিতে বেশ কয়েকজন আ.লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের সাবেক সেক্রেটারি ও প্রেমবাগ ইউনিয়ন আ.লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সৈয়দ মনোয়ার হোসেনকে। এছাড়া কমিটিতে রয়েছেন,
কৃষক লীগের থানা কমিটির সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত সভাপতি নিজেই প্রেমবাগ ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি সৈয়দ আশরাফ, ইউনিয়ন আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ আলম বাচ্চু,
আ.লীগ কর্মী কামরুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন
স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে একটি সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসিয়ে,
একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা এতিমখানার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এমন পরিস্থিতিতে এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—কেন সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে গোপনে কমিটি গঠন করা হলো? এবং সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব কেন? একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এতিমখানা তো মানবিক প্রতিষ্ঠান। এখানে রাজনীতি ঢুকলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এতিম শিশুরাই। অভিযোগ অস্বীকার করে এতিমখানার সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন,
এরশাদ এতিমখানায় সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, আমি বর্তমানে যশোরের বাইরে আছি। অফিসে গিয়ে বিষয়টি দেখে বিস্তারিত জানাতে পারবো। অনিয়মের অভিযোগ পুরনো স্থানীয়দের দাবি, এই এতিমখানায় আগে থেকেও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে প্রভাবশালী মহলের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ফলে একটি মানবিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিয়ে দিন দিন বাড়ছে উদ্বেগ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।