
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে এক বিএনপি নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ ইতোমধ্যে চারজনকে আটক করেছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে। মামলার বাদী নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আল মহিউদ্দিন বাপ্পি জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নওয়াপাড়া স্টেশনবাজার এলাকায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। তারা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং দাবি না মানায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পুলিশ জানায়, আটককৃতরা হলেন, মানিক ওরফে কালো মানিক (৩৪),মেহেদী হাসান সাজু (৩২), হোসেন শেখ (২৬), রাকিব মোল্যা (১৬)। তারা সকলেই অভয়নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চিহ্নিত মাদক কারবারি ও একাধিক মামলার আসামি রুহুল আমিনের নেতৃত্বে ১৬ জনের একটি দল এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রসহ হামলায় অংশ নেয়। হামলাকারীরা দোকান ভাঙচুর করে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি করে এবং নগদ ৮০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।এসময় নওয়াপাড়া পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান আতা, যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম, মাহবুর, রাজু ও রনি বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন। ঘটনার প্রতিবাদে একইদিন বিকেলে নওয়াপাড়া বাজারে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫/২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ঘটনার পর থেকে নওয়াপাড়া স্টেশনবাজার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।