
নিজস্ব প্রতিবেদক
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলাম-কে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর শুরু হয় নানা বিতর্ক, পাল্টাপাল্টি দাবি এবং নতুন নতুন তথ্যের উদ্ভব—যা ঘটনাটিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
প্রথমদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেল-সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ক্রাইম বার্তা’ দাবি করে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া কনটেন্ট। তবে পরবর্তীতে একই স্থান ও প্রেক্ষাপটের আরও কিছু ভিডিও সামনে আসলে সেই দাবিতে ভাটা পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করছেন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। বিভিন্ন মুহূর্তে তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে এবং ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা গেছে। ফুটেজে থাকা টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে ২০২৩ সালের ১০ জুলাই। যদিও ঘটনাস্থল এখনো নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি। তথ্য যাচাইকারী একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, ভিডিওটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিজিটাল ম্যানিপুলেশনের কোনো সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। এআই ভিডিওতে সাধারণত যে ধরনের ভিজ্যুয়াল ত্রুটি বা অসঙ্গতি দেখা যায়, এই ভিডিওতে তার উপস্থিতি নেই। ফলে এটি বাস্তব ভিডিও হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দলটির মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সাংবাদিকদের বলেন, ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। এমপি সাহেব জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে দ্বিতীয় বিয়ের নির্দিষ্ট সময় সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। ভিডিওতে দেখা তরুণীর বয়স তুলনামূলক কম বলে মনে হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত একটি বায়োডাটা অনুযায়ী, তার বর্তমান বয়স প্রায় ১৮ বছর ২ মাস। তবে বায়োডাটায় তিনি নিজেকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রাইভেসির স্বার্থে তরুণীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। জানা গেছে, তিনি ২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ থাকায় সরাসরি বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ভিডিওটি নিয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এমপি গাজী নজরুল ইসলাম-এর কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তার এই নীরবতা বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। এবিষয়ে সচেতন মহল মনে করছে, ঘটনাটি এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে, ভিডিওটি প্রথমে এআই বলে দাবি করা হলো কেন? পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি, এটি কি চাপের ফল? তরুণীর বায়োডাটার তথ্য ও বাস্তবতার মধ্যে অসঙ্গতি কেন?
ভিডিও প্রকাশের পেছনে কারা জড়িত? একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক, তিনটি স্তরেই তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
এআই বিতর্ক থেকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ স্বীকারোক্তি, ঘটনার মোড় ঘুরলেও এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তই পারে এই রহস্যের জট খুলতে, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।