
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছে তরুণদের নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ (তেলাপোকা) জনতা পার্টি (সিজেপি)’। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে কংগ্রেসসহ আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। বিক্ষোভকারীরা ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি করেছেন। এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তার এই ঘোষণাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন থেকে পিছু হটার প্রশ্নই আসে না।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদির আশ্বাসের পরও সিজেপি তাদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেনি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপ বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ না করে মোদি যেন পুরো দিল্লিই বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন ভণ্ডুল করতে পরিকল্পিতভাবে বাইরের লোক ঢোকানো হচ্ছে। তার ভাষায়, এক মাস ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলছিল। কিন্তু এখন ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে বাইরে থেকে লোক আনা হচ্ছে। এদিকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ আরও তীব্র হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত পর্যন্ত যন্তর মন্তর এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে এসিপি পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই যন্তর মন্তরে আবারও বিপুল সংখ্যক বিক্ষোভকারী জড়ো হন। ঠিক এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, আমাদের তরুণদের ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই।
তিনি আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে মোদির এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন মোদিই।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বানও জানান।