
বিশেষ প্রতিনিধি
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় ঘটে গেছে এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। আপন চাচির বিরুদ্ধে ভাতিজার পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত চাচি জেসমিন আক্তার (২৫) পালিয়ে গেছেন। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় সোয়া ২টার দিকে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মজ্জাদপাড়ার বাদশা মিয়া বেপারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত জুয়েল, ওই বাড়ির কামাল হোসেনের ছেলে। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুয়েল দীর্ঘ ১১ বছর ওমানে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় এক মাস আগে দেশে ফেরেন। প্রবাসে থাকাকালে পারিবারিক মোবাইল ফোন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি চাচি জেসমিনের ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এভাবে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয় বলে স্থানীয়দের ধারণা। দেশে ফেরার পর পরিবারের পক্ষ থেকে জুয়েলের বিয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে জুয়েল চাচির ঘরে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে জেসমিন তার ওপর নৃশংস হামলা চালিয়ে তার পুরুষাঙ্গ কেটে দেন এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মোন্নাফ জানান, ভুক্তভোগীর এক স্বজন থানায় এসে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
অভিযুক্ত জেসমিন আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে।