
নিজস্ব প্রতিবেদক
আশুলিয়ায় ব্যারিকেড দিয়ে বাস থামিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার, মামলা দায়ের। ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাভার পরিবহনের বাসচালক, তার সহকারী এবং চালকের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাসচালক মো. ইমরান (৩৫), তার সহকারী মো. মুসফেকুর রহমান জনি (২০) এবং মো. সুমন প্রামাণিক (৩০)। পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে নবীনগরের উদ্দেশ্যে সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন ওই নারী। বাসটি নবীনগরের কাছাকাছি পৌঁছালে চালক ইমরান কৌশলে বাস চালানোর দায়িত্ব সহকারী জনির কাছে দিয়ে দেন। এরপর তিনি ওই নারীর সঙ্গে থাকা রুবেল নামে এক ব্যক্তিকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে শ্রীপুর এলাকায় বাস থেকে নামিয়ে দেন।
পরবর্তীতে চালক নিজেও বাস থেকে নেমে যান। এ সময় বাসে সহকারী জনি ও সুমন প্রামাণিক অবস্থান করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর সুমনের সহায়তায় সহকারী জনি চলন্ত বাসেই ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া রুবেল জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের একাধিক টিম দ্রুত অভিযান চালায়। রাড়ইপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য একটি বাস দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে অভিযুক্ত বাসটি থামানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগী নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে এবং জনি ও সুমনকে আটক করে। একই সঙ্গে বাসটিও জব্দ করা হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আশুলিয়ার বাড়ইপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে বাসচালক ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দ্রুত অভিযান চালিয়ে নারীকে উদ্ধার এবং ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। পরে পৃথক অভিযানে মূল অভিযুক্ত বাসচালককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং গণপরিবহনে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জোরালো হচ্ছে।