
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক নারী আয়া গুরুতর নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী আ.লীগ নেতা ও ফার্মেসি মালিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ঝর্ণা বেগম (৩৫) দীর্ঘদিন ধরে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়া হিসেবে কর্মরত। তিনি রোগীদের জন্য নিয়মিত ঔষধ আনতে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে যাতায়াত করতেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিযুক্ত তুহিন ওরফে তুহিন ফার্মেসী, যিনি স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী একজন আ.লীগ নেতা ও বিভিন্ন সময় বিতর্কীত কর্মকান্ড হিসেবে পরিচিত, বারবার ওই নারীকে একা পেয়ে কু-প্রস্তাব ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৫ আগস্ট দুপুরে এক রোগীর জন্য ঔষধ কিনতে গেলে অভিযুক্ত তাকে জোরপূর্বক দোকানের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং অশ্লীল আচরণ করে। বাধা দিলে শুরু হয় নির্যাতন, মোবাইল ফোন দিয়ে মাথায় আঘাত, কাপড় ছিঁড়ে ফেলা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে তাকে মাটিতে ফেলে পাঁজরে লাথি মারা হয়। শুধু তাই নয়, তার গলায় থাকা প্রায় ২ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার (চেইন ও কানের দুল) এবং ব্যাগে থাকা ১০ হাজার টাকা নগদ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় আশেপাশে লোকজন জড়ো হলে অভিযুক্ত দ্রুত সটকে পড়ে এবং যাওয়ার আগে ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর আহত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে বিচার না পেয়ে এবং অভিযুক্তের প্রভাবের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি অবশেষে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, এ ধরনের ঘটনা যদি প্রকাশ্যে ঘটে, তাহলে সাধারণ নারীদের নিরাপত্তা কোথায়? এ বিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুজ্জামান জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন প্রশ্ন,প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কি বারবার চাপা পড়ে যাবে এমন নৃশংস ঘটনা, নাকি মিলবে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার?এবিষয়ে হাসপাতাল গেটের সামনে তুহিন ফার্মেসীর মালিক তুহিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব বলেন, আমি ওই বিষয়টি শুনেছি ঝর্ণা নামের ওই আয়া সরকারি কোন চাকরি জীবি না আমরা তাকে রেখেছি আয়া হিসাবে কিন্তু তার কর্মকান্ড ভালো নয়, তবে যে বিষয়টি ঘটেছে সেই বিষয়টি আমাদের মতো করে দেখবো বিষয়টি আসলে কী?