1. live@dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com
  2. info@www.dailyjagrotobd.com : - :
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ছাত্রের কান্ড দুই ছাত্রীকে মূত্র মেশানো পানি পান করানোর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক বললেন চকলেট খাও ভালো লাগবে। বাবা ও প্রেমিকের সহায়তায় পর্নোগ্রাফি ব্যবসা, ডিবির জালে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া একাই ১৩০ মামলার আসামি, অবশেষে র‍্যাবের হাতে নিশাত প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ, জামায়াত নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি অভয়নগরে ৮০ ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী লিপি আটক অভয়নগরে সরকারি রাস্তার ইট, ব্যক্তির জমি, অভিযোগের তীর ইউপি সদস্য হালিম শেখের বিরুদ্ধে  এবার ১০ দিনের আলটিমেটাম দিল শুভেন্দুকে ককরোচরা তদন্ত শুরুর আগেই সাক্ষী নির্ধারণের অভিযোগ চট্টগ্রামে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ফের জলাবদ্ধতা, ডুবল জামালখানও কুড়িগ্রামে লাঠি হাতে আন্দোলনে প্রাথমিকের শিশু শিক্ষার্থীরা

নদীর বুকে জন্ম, সংগ্রামে টিকে থাকা: বাংলাদেশের বেদে জনগোষ্ঠীর অজানা গল্প

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

লেখক:- মোঃ কামাল হোসেন 

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর বঞ্চনার দীর্ঘ পথচলায় এক যাযাবর জীবনের লড়াই

বাংলাদেশের নদীভিত্তিক সভ্যতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে এক রহস্যময়, প্রান্তিক ও সংগ্রামী জনগোষ্ঠী,বেদে বা যাযাবর জাতি। এদেরকে অনেকেই জলযাযাবর বা নদীর জিপসি নামে চেনেন। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নদীকেন্দ্রিক জীবন, ভ্রাম্যমাণ পেশা এবং সামাজিক বঞ্চনার মধ্য দিয়েই তারা টিকে আছে। বেদে জনগোষ্ঠীর উৎপত্তি নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মত। ঐতিহাসিকদের একাংশ মনে করেন, তারা আরাকান অঞ্চল থেকে আগত মনতং (Mon-tong) গোত্রের একটি শাখা, যারা পরবর্তীতে বাংলার নদীঘেঁষা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আবার অনেক গবেষকের মতে, তারা এই উপমহাদেশেরই প্রাচীন অধিবাসী, যারা বহু আগে থেকেই সর্পজীবী বা ভেষজ চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত ছিল। বেদে, বাইদ্যা, বাদিয়া, বেদেনি, বিভিন্ন নামে পরিচিত এই জনগোষ্ঠী ঐতিহ্যগতভাবে নৌকাকেই বাসস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে।

বেদেদের জীবনধারা সম্পূর্ণ ভ্রাম্যমাণ। তারা পরিবারসহ নৌকায় বসবাস করে এবং দলবদ্ধভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়ায়। সাধারণত কয়েক মাসের বেশি তারা কোথাও স্থায়ীভাবে থাকে না। তাদের সমাজ কাঠামো গোত্রভিত্তিক, যেমন সাপুড়িয়া, বাজিকর, মিরশিকারি ইত্যাদি।

বেদে সমাজের পেশা ও সংস্কৃতি লোকজ ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাদের প্রধান পেশাগুলোর মধ্যে রয়েছে, সাপ খেলা ও সাপ ধরা, ভেষজ চিকিৎসা ও কবিরাজি, বানর খেলা ও জাদু প্রদর্শন

চুড়ি, ফিতা, খেলনা বিক্রি, তাবিজ-কবচ ও আধ্যাত্মিক চিকিৎসা, এই পেশাগুলো শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং তাদের সংস্কৃতি ও পরিচয়ের অংশ।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রান্তিক জনগোষ্ঠী হিসেবে বেদেরা দীর্ঘদিন ধরেই নানা বঞ্চনার শিকার।

প্রায় ৯৮% মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে

প্রায় ৯৫% শিশু বিদ্যালয়ে যায় না। দীর্ঘদিন তারা ভোটাধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিল; ২০০৮ সালে তারা ভোটাধিকার পায়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব, স্থায়ী বাসস্থানের অনুপস্থিতি, সামাজিক বৈষম্য ও কর্মসংস্থানের সংকট তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেদে সমাজেও এসেছে পরিবর্তন। নদী ভরাট, সেতু ও বাঁধ নির্মাণের ফলে তাদের নদীকেন্দ্রিক জীবন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে ঐতিহ্যবাহী পেশার চাহিদাও কমে গেছে। ফলে অনেক বেদে পরিবার এখন শহরে গিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা বা ভিক্ষাবৃত্তিতে যুক্ত হচ্ছে। এতে তাদের শতাব্দীপ্রাচীন জীবনধারা ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে। বেদে সমাজের জীবন যেন এক অবিরাম সংগ্রাম, নদীতে জন্ম, নদীতেই বেড়ে ওঠা; ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে জীবনের ঝুঁকি; চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু; শিক্ষার সুযোগ না থাকায় অন্ধকার ভবিষ্যৎ। অনেক বেদে নারী শহরে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে বাধ্য হয়, যা তাদের দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতা তুলে ধরে। সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বেদে জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, পুনর্বাসন প্রকল্প

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি। তবে এসব উদ্যোগ এখনও পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশের বেদে সম্প্রদায় কেবল একটি জনগোষ্ঠী নয়, এটি আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু দারিদ্র্য, শিক্ষা বঞ্চনা ও আধুনিকতার চাপ তাদের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। প্রশ্ন থেকে যায়, এই যাযাবর জনগোষ্ঠী কি আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাবে, নাকি রাষ্ট্র ও সমাজের সহায়তায় নতুনভাবে টিকে থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট