1. live@dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com
  2. info@www.dailyjagrotobd.com : - :
বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ছাত্রের কান্ড দুই ছাত্রীকে মূত্র মেশানো পানি পান করানোর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক বললেন চকলেট খাও ভালো লাগবে। বাবা ও প্রেমিকের সহায়তায় পর্নোগ্রাফি ব্যবসা, ডিবির জালে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া একাই ১৩০ মামলার আসামি, অবশেষে র‍্যাবের হাতে নিশাত প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ, জামায়াত নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি অভয়নগরে ৮০ ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী লিপি আটক অভয়নগরে সরকারি রাস্তার ইট, ব্যক্তির জমি, অভিযোগের তীর ইউপি সদস্য হালিম শেখের বিরুদ্ধে  এবার ১০ দিনের আলটিমেটাম দিল শুভেন্দুকে ককরোচরা তদন্ত শুরুর আগেই সাক্ষী নির্ধারণের অভিযোগ চট্টগ্রামে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ফের জলাবদ্ধতা, ডুবল জামালখানও কুড়িগ্রামে লাঠি হাতে আন্দোলনে প্রাথমিকের শিশু শিক্ষার্থীরা

চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার উধাও, আটক ২

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

এক বছরের বেশি সময়ের হিসাব নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন, প্রতিদিনের ক্যাশ ও ভল্ট যাচাই হলে এত টাকা উধাও হলো কীভাবে?

চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্টে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতির ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের দাবি, বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের এই বিপুল অর্থ ভল্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং মো. জাফরুল্লাহ তানভীর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে বিপুল অঙ্কের এই অর্থের ঘাটতি নিয়ে এরই মধ্যে উঠেছে নানা প্রশ্ন, এক বছরের বেশি সময় ধরে এত বড় অঙ্কের টাকা কীভাবে হিসাবের বাইরে থাকল? প্রতিদিন ব্যাংকের ক্যাশ ও ভল্টের হিসাব মিলিয়ে দেখার নিয়ম থাকলে এতদিন বিষয়টি ধরা পড়ল না কেন? শাখা ব্যবস্থাপনার তদারকিই বা কোথায় ছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব এবং ভল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। পরে ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র, নথি ও অন্যান্য হিসাব যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকের ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র অফিসার মো. কামরুল হোসেনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। ব্যাংকের অভিযোগ, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের সহায়তায় কামরুল হোসেন ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ২২/৪৩৮। এতে দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ (৫৮)। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন।

তবে মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ ব্যাংকের অভিযোগের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন এবং অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করেন। অথচ তাঁকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আজিম উল্লাহর দাবি, তাঁর ছেলের কাছে ব্যাংকের এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণও দেখানো হয়নি।

তিনি জানান, ৯ আগস্ট রাত ১টার দিকে তাঁর স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়, তাঁর ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছেন। টাকা নিয়ে যেতে বলা হলেও কীসের টাকা বা কত টাকা, এসব পরিষ্কার করা হয়নি। তাঁর ছেলেকেও ফোনে কথা বলতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

আজিম উল্লাহ বলেন, এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনই অন্যদিনের মতো তাঁর ছেলেকে ফোন করে ব্যাংকে ডেকে নিয়ে যান। পরে রাতে সাত-আটজন আত্মীয়স্বজন নিয়ে ব্যাংকে গেলে ব্যাংকের লোকজন তাঁদের ভেতরে ঢুকতে দেননি।

পরে তাঁরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে আবার ব্যাংকে গেলে প্রথমে তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ কৌশলে ব্যাংকে প্রবেশ করে জাফরুল্লাহ তানভীর ও কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি। আজিম উল্লাহ বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এত দীর্ঘ সময়ে ব্যাংকের নিয়মিত হিসাব-নিকাশ ও তদারকিতে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি ধরা পড়ল না কেন? একটি ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন শেষে ক্যাশ ও ভল্টের হিসাব মিলিয়ে দেখার নিয়ম থাকার কথা। সে ক্ষেত্রে প্রতিদিনের হিসাব যাচাই করা হলে কোটি কোটি টাকার ঘাটতি এক বছরের বেশি সময় ধরে অজানা থাকার সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো, তদন্তে এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, আসামিদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের পর অর্থের ঘাটতির প্রকৃত কারণ, টাকা সরানোর সঙ্গে কারা জড়িত এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদারকিতে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, এসব বিষয় স্পষ্ট হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট