
নিজস্ব প্রতিবেদক
পুরান ঢাকার সদরঘাটে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মিতুল (২৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সূত্রাপুর থানার ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিতুল ঝালকাঠির সাহাবাঙ্গল গ্রামের মো. রাসেল সরদারের ছেলে। তিনি কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক যুবদল নেতা সোবহান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণ, দুজনই মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়ার অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। দুজনই কোতোয়ালি থানা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
শনিবার রাতে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে মিতুলের বুকে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মিতুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজনসহ প্রায় ৮০ থেকে ১০০ জন মিটফোর্ড হাসপাতালে জড়ো হন। সেখানে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়া বলেন, এরা আমার সমর্থক নয়। তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে থাকে। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। বিস্তারিত জানতে পারিনি। সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিউর রহমান বলেন, নিহত মিতুল কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পূর্বশত্রুতার জেরে কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে আঘাতের ঘটনায় মিতুলের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মিতুলের মরদেহ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, কারা হামলায় জড়িত এবং চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।