
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে সরকারি রাস্তা নির্মাণের বরাদ্দ, সরকারি ইটের ব্যবহার এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন শুভরাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হালিম শেখ। এ ঘটনায় এম এম জালাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে সরকারি প্রকল্পের অর্থ ও উপকরণ ব্যবহারে অনিয়মের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন সরকারি ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর শুভরাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি রাস্তার ইটের সলিং প্রকল্পের বরাদ্দ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে অনিয়ম করা হয়েছে। সরকারি রাস্তা নির্মাণের পরিবর্তে অর্থের বিনিময়ে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। অভিযোগে বলা হয়েছে, মো. ফেরদৌস বিশ্বাসের কাছ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে তাঁর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে রাস্তা তৈরি করা হয়। এ ছাড়া সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত ইটের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, প্রকল্পে ১ নম্বর ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ২ নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও গুরুতর দাবি করা হয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা কার্ড নিয়ে।
গোপীনাথপুর গ্রামের আল মামুন শেখের স্ত্রীর মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে কার্ড করে দিতে না পারায় টাকা ফেরত চাইলে ৫ হাজার টাকার মধ্যে ১ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। বাকি ৩ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত না দিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
শুধু মাতৃত্বকালীন ভাতা নয়, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নামেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে স্থানীয় একাধিক ইউপি সদস্য এসব বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তেই বের হতে পারে আসল চিত্র
অভিযোগের বিষয়গুলো সত্য হলে সরকারি প্রকল্পের অর্থ ও উপকরণ ব্যবহারে অনিয়ম এবং সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের বিষয়টি গুরুতর বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. হালিম শেখ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। এগুলোর কোনোটাই সত্য নয়। এবিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নুরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি রাস্তার ইট কোথায় গেল, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে সরকারি প্রকল্পের কাজ কেন করা হলো, প্রকল্পে ব্যবহৃত ইটের মান কী ছিল এবং ভাতা কার্ড করে দেওয়ার নামে সত্যিই টাকা নেওয়া হয়েছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তে।