
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বড় ছেলের বিরুদ্ধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে থানায় গিয়ে ফটকের সামনে লুটিয়ে পড়ে আবু তাহের মজুমদার (৭৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার মূল ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আবু তাহের উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি সারা জীবন কৃষিকাজ করে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে বড় করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বড় ছেলে শহিদুল ইসলাম ওরফে শরীফের সঙ্গে আবু তাহেরের পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিসও হয়েছে। তবে তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে স্থানীয়রা জানান।
শনিবার সকালে বাবা-ছেলের মধ্যে ফের ঝামেলা হয়। পরে বড় ছেলের বিরুদ্ধে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ করতে দুপুরে থানায় যান আবু তাহের। থানার সামনে একটি কম্পিউটার দোকান থেকে অভিযোগপত্র লিখিয়ে নেন তিনি। এরপর অভিযোগপত্র হাতে থানার মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশের সময় হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোসাইন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আবু তাহের অ্যাজমাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ জানায়, মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে আবু তাহেরের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। শনিবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অস্বীকার শহিদুলের
বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শহিদুল ইসলাম। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে মুঠোফোনে তিনি বলেন, তিনি মাদক কারবারি বা মাদকসেবী নন; তিনি প্রবাসী এবং ছুটিতে দেশে এসেছেন। কয়েক দিন পরই তার বিদেশে ফিরে যাওয়ার কথা। শহিদুলের দাবি, তিনি বাবাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করেননি। বরং শনিবার সকালে তার বাবা দা দিয়ে তাকে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর কী করবেন বুঝতে না পেরে তার বাবা থানায় চলে যান বলে দাবি করেন তিনি।
তবে স্থানীয় এক প্রতিবেশীর দাবি, শহিদুল দীর্ঘদিন দুবাইয়ে ছিলেন এবং প্রায় আড়াই মাস আগে ছুটিতে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর মাদক সেবন ও পরিবারের কাছে টাকা চাওয়া নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয় বলে ওই প্রতিবেশী জানান। ওই প্রতিবেশীর দাবি, এসব বিষয় নিয়ে আবু তাহের ছেলেকে শাসন করতেন। একপর্যায়ে ছেলে তাকে মারধরও করেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে স্থানীয় প্রতিবেশীর এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে শহিদুলের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি বা নির্যাতনের অভিযোগও এখনো প্রমাণিত নয়।
আবু তাহেরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।