
বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর:
যশোর জেলা প্রশাসনকে নিয়ে ফের দানা বাঁধছে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ। এবার জেলার সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের (এমপি) স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যদের তুলনায় ‘কম গুরুত্ব’ দিতে মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের গোপনীয় নির্দেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আশেক হাসানের বিরুদ্ধে। একই সাথে তাঁর বিরুদ্ধে জামায়াত-ঘনিষ্ঠতার পুরোনো অভিযোগ নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যশোরের ৬টি জাতীয় সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫টিতেই জয়লাভ করেছে জামায়াতে ইসলামী এবং কেবল যশোর-৩ আসনে জয় পায় বিএনপি। পরবর্তীতে বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন সাবিরা সুলতানা মুন্নি (দায়িত্বপ্রাপ্ত: যশোর-১ ও ২ আসন) এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ (দায়িত্বপ্রাপ্ত: যশোর-৪, ৫ আসন)।
অভিযোগ রয়েছে, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকেই সরকারি উন্নয়নমূলক সভা, প্রশাসনিক বৈঠক ও স্থানীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁদের বরাবরই অবমূল্যায়ন করা হচ্ছিল। তা সত্ত্বেও গত ছয় মাস ধরে তাঁরা জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় রেখে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
তবে সম্প্রতি পরিস্থিতির নতুন মোড় নেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এবং পৃথক গোপন বার্তায় জেলা প্রশাসক আশেক হাসান স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন—যেন জামায়াতের স্থানীয় এমপিদের তুলনায় বিএনপির এই সংরক্ষিত নারী এমপিদের কোনোভাবেই বাড়তি মূল্যায়ন বা প্রাধান্য না দেওয়া হয়।
সংরক্ষিত নারী এমপিদের মধ্যে সাবিরা সুলতানা মুন্নি যশোরের স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় তাঁর এলাকা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশার চাপ অনেক বেশি। বরাদ্দকৃত আসনগুলোতে সরকারিভাবে তিনি যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এই গোপন নির্দেশনার খবর চাউর হওয়ার পর পুরো জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র কানাকানি ও গুঞ্জন। জেলা প্রশাসকের নিরপেক্ষতা নিয়ে আবারও উঠেছে বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর যশোর জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তিনি জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখে আসছেন। এমনকি গত নির্বাচনেও বিএনপি প্রার্থীরা তাঁর পক্ষপাতমূলক আচরণের শিকার হয়ে ভরাডুবির মুখে পড়েন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।
সরকারি অফিসে এমন পক্ষপাতমূলক নির্দেশ ও রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরাগের বিষয়ে জানতে যশোর জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন পক্ষপাতমূলক ভূমিকা জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ভারসাম্যকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সুশীল সমাজ।