
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলের লোহাগড়ায় এক গৃহবধূর মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক অ্যাম্বুলেন্সচালকের বিরুদ্ধে। পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করার সময় মৃত গৃহবধূর মা ওই চালককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। আটক ব্যক্তির নাম সাগর শেখ। তিনি লোহাগড়া উপজেলার লক্ষ্মীপাশা তেলপাম্প এলাকার মৃত কামরুল শেখের ছেলে। রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামে সাদিয়া আক্তার লামিয়া (২২) নামের এক গৃহবধূ গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রাতে মরদেহটি থানায় নেওয়ার জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, ওই রাতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে একা ছিলেন চালক সাগর শেখ। একপর্যায়ে তিনি সাদিয়ার মরদেহের সঙ্গে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে সাদিয়ার মা সেখানে গিয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন বলে দাবি পরিবারের।
সাদিয়ার মা অভিযোগ করেন, চালক তার মেয়ের শরীরের কাপড় সরিয়ে অনৈতিক কাজের চেষ্টা করছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরের ঘটনা যেন বাইরে থেকে দেখা না যায়, সে জন্য জানালাগুলো গামছা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন সাগর শেখকে আটক করে গণধোলাই দেন। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় সোমবার (৩১ আগস্ট) বলেন, অভিযুক্ত সাগর শেখকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাগর শেখের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।