
এ আর নাহিদ, যশোর
সব ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা শুরু করেছে। এই মাসের শেষের দিকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অন্যান্য জেলার মতো যশোর জেলার ৮টি উপজেলার ৯৩টি ইউনিয়নেও বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া।
এবারের নির্বাচনের আবহ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে ভিন্ন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার সিদ্ধান্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশা অনেক বেশি। সচেতন মহলের মতে, দলীয় প্রতীকহীন নির্বাচন হওয়ার কারণে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনেক বেশি সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।
বর্তমানে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকার পরিচালনায় বিএনপি থাকায় দলটির ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তৎপরতা ও দৌড়ঝাঁপ সবচেয়ে বেশি। তবে দলীয় অভ্যন্তরে একটি অলিখিত নির্দেশনা বা কানাঘুষা রয়েছে—ইউনিয়নভিত্তিক দল যাকে চূড়ান্ত সমর্থন দেবে, তিনিই বিএনপির পক্ষ থেকে লড়বেন। দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কল্পনা করলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই ভয়ে প্রার্থীরা এখনই প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও, তলে তলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জোরেশোরে গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিএনপির হাইকমান্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের শাসনামলে যারা মাঠের রাজনীতি করতে গিয়ে জেল, জুলুম, মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের ত্যাগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন (সভাপতি, যশোর জেলা বিএনপি):
“যেহেতু এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে অনেক বেশি। এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা স্থানীয় নির্বাচনে সৎ, নিষ্ঠাবান, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিগত ইমেজসম্পন্ন এবং দলের প্রতি প্রকৃত ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।”
মোঃ মকবুল হোসেন বলেন (সভাপতি, যশোর জেলা কৃষক দল):
“আমাদের দলীয় চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, একটি ইউনিয়নে একজন একক চেয়ারম্যান প্রার্থী থাকবে। প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সৎ, শিক্ষিত, জনকল্যাণমুখী এবং বিগত ১৭টি বছর যারা প্রকৃতপক্ষে রাজপথে থেকে দলের জন্য মার খেয়েছেন, তাদেরই মূল্যায়ন করা হবে।”
মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন (সাধারণ সম্পাদক, মনিরামপুর উপজেলা বিএনপি):
“আমি মনে করি যারা ফেয়ার (fair) এবং যাদের জনগণের প্রতি মহব্বত আছে, জনগণের জন্য যাদের মন কাঁদে—এইরকম ব্যক্তিরাই এবার চেয়ারম্যান নির্বাচনের সুযোগ পাবেন। যে জনগণের কাছে যেতে পারে না, যার জনগণের প্রতি ভালোবাসা কাজ করে না, তাদের দিয়ে যদি নির্বাচন করা হয় তাহলে সেটা হিতে বিপরীত হতে পারে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ও দলের প্রতি যাদের অসীম ত্যাগ রয়েছে, তাদেরকে এবার নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে মনিরামপুর বিএনপি চেষ্টা করবে। এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সৎ, যোগ্য, ত্যাগী এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার বিচারে তৃণমূলের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা আছে, তাদেরই চেয়ারম্যান পদে বিএনপি থেকে সমর্থন দেওয়া হবে।”
বিশেষ জনমত জরিপ
বিগত ২৫ দিন ধরে আমাদের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল যশোর জেলার বিভিন্ন উপজেলার ভোটার, সাধারণ মানুষ ও বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সাথে সরাসরি কথা বলেছে। সততা, শিক্ষা, মানবিকতা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি এবং আওয়ামী আমলে সহ্য করা রাজনৈতিক নির্যাতনের মাপকাঠিতে একটি নিবিড় জরিপ চালানো হয়। এই জরিপের ভিত্তিতে জেলার ৯৩টি ইউনিয়ন থেকে ১০০ জন যোগ্য প্রার্থীর একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ষষ্ঠ পর্বে আজ তুলে ধরা হলো যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের ১৮ জন শীর্ষ প্রার্থীর মাঠচিত্র ও তাদের রাজনৈতিক প্রোফাইল। এই সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ইচ্ছে ও প্রস্তুতি তাদের রয়েছে; তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে দল। দল যাকে মনোনয়ন বা সমর্থন দেবে, তারা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষেই কাজ করবেন। উল্লেখ্য যে, হরিহরনগর ইউনিয়নে নির্বাচন পরে অনুষ্ঠিত হবে।
মনিরামপুর উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের মাঠের সমীকরণ ও প্রার্থী পরিচিতি
১. রোহিতা ইউনিয়ন: এই ইউনিয়নে দুই জন প্রার্থী আলোচনায় আছেন
ক) মোঃ আতিয়ার রহমান
রোহিতা ইউনিয়নে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা মোঃ আতিয়ার রহমান জরিপে বেশ এগিয়ে রয়েছেন। তিনি এই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। বিগত আওয়ামী আমলে চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তার নামে ১৬টি মামলা হয় এবং তাকে জেলে যেতে হয়েছে মোট ৩ বার। তার সবচেয়ে বড় গুণ হলো তিনি এলাকায় একজন ‘ক্লিন ইমেজ’ বা পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে পরিচিত।
খ ) মোঃ সাইদুল ইসলাম
রোহিতা ইউনিয়নে বিএনপির এক অপরাজেয় শক্তির মোঃ সাইদুল ইসলাম। যিনি বর্তমানে মনিরামপুর উপজেলার যুব দলের সদস্য সচিব। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের হয়রানি শিকার হয়েছেন। যদিও তার নামে কোন মামলা বা তিনি কখনো আওয়ামী আমলে জেলে যাননি। এলাকায় সব বয়সী ভোটারের কাছে তার জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।
২. কাশিমনগর ইউনিয়ন: মোঃ আব্দুর রাজ্জাক
কাশিমনগর ইউনিয়নে তৃণমূলের আস্থার প্রতীক হয়ে আছেন জনাব মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। ত্যাগী এই নেতা বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা ছিল এবং তিনি এক মামলায় ১ মাস ১৭ দিন একটানা কারাবরণ করেছেন। গত ১৭ বছর এই ইউনিয়নে তিনিই সবচেয়ে বেশি আওয়ামী অত্যাচার-অনাচারের শিকার হয়েছেন। তবে শত কষ্টের মাঝেও তিনি কখনো বিএনপির রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাননি। ইউনিয়নে তিনি অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ইমেজের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত। ২০০৩ সালে তিনি এই ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন।
৩. ভোজগাতী ইউনিয়ন: মোঃ ওলিয়ার রহমান
ভোজগাতী ইউনিয়নে বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির কাণ্ডারি হিসেবে খুবই পরিচিত মোঃ ওলিয়ার রহমান। তিনি এই ইউনিয়নের ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন ২০১২-২০২০ সাল পর্যন্ত এবং থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক। সদালাপী ও বিনয়ী এই নেতার এলাকায় ত্যাগী হিসেবে বেশ সুনাম রয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ ভোটারদের মাঝে তার বেশ ভালো গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। আওয়ামী আমলে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা ছিল এবং তাকে ৪ বার কারাবাস বরণ করতে হয়েছিল।
৪. ঢাকুরিয়া ইউনিয়ন: মোঃ মতিয়ার রহমান
ঢাকুরিয়া ইউনিয়নে বিএনপির শক্ত কাণ্ডারি হিসেবে পরিচিত মোঃ মতিয়ার রহমান। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আওয়ামী প্রশাসন ১১টি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা রাজনৈতিক মামলা দিয়েছিল এবং ৩ বার তাকে জেল খাটতে হয়েছে। এলাকায় দল-মত নির্বিশেষে সকল বয়সী ভোটারের কাছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে।
৫. হরিদাসকাঠি ইউনিয়ন: মোঃ নবীরুজ্জামান আজাদ
হরিদাসকাঠি ইউনিয়নে রাজনৈতিক ত্যাগের দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে আছেন মোঃ নবীরুজ্জামান আজাদ, যিনি এই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। এই ইউনিয়ন থেকে তিনি এর আগে ২ বার চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। বিগত আওয়ামী আমলে তাকে রাজনৈতিকভাবে দমন করতে তার নামে ১৮টি মামলা দায়ের করা হয় এবং তাকে অসংখ্যবার জেল খাটতে হয়েছে। ভদ্র, সৎ ও ত্যাগী রাজনীতিবিদ হিসেবে এলাকায় একদিকে যেমন দল-মত নির্বিশেষে তার বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে ক্লিন ইমেজ। এই ইউনিয়নে এই মুহূর্তে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তার কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে।
৬. মনিরামপুর ইউনিয়ন: মোঃ নিস্তার ফারুক
মনিরামপুর ইউনিয়নের তৃণমূলের রাজনীতিতে অন্যতম জনপ্রিয় নাম মোঃ নিস্তার ফারুক। বর্তমানে তিনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে বেশ সাফল্যের সাথে তার দায়িত্ব পালন করে চলেছেন এবং এর আগে তিনি এই ইউনিয়ন থেকে দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। বিগত আওয়ামী আমলে রাজনৈতিক কারণে তার ওপর তীব্র নির্যাতন চালানো হয়; তিনি ৪২টির বেশি মামলার শিকার হন এবং বেশ কয়েকবার তাকে জেল খাটতে হয়েছে।
৭. খেদাপাড়া ইউনিয়ন: মোঃ আজিবর রহমান
খেদাপাড়া ইউনিয়নের ১৭ বছরের রক্তক্ষরণ ও চরম আত্মত্যাগে বলীয়ান বিএনপির কাণ্ডারি মোঃ আজিবর রহমান। যিনি বর্তমানে এই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি করার অপরাধে বিগত আওয়ামী আমলে তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়—আওয়ামী প্রশাসন এই যুবনেতার নামে ৭টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেয় এবং তিনি ৫ বার কারাবাস ভোগ করেন। শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা তার ব্যবসাও বন্ধ করে দেয়। ইউনিয়নে দল-মত নির্বিশেষে তার একটি বিশাল ভোট ব্যাংক রয়েছে।
৮. ঝাঁপা ইউনিয়ন: মোঃ আলাউদ্দিন
ঝাঁপা ইউনিয়নে বিএনপির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেন মোঃ আলাউদ্দিন। ত্যাগী এই দূরদর্শী নেতা ২৪ বছর যাবত এই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিগত স্বৈরাচারী আমলে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে তার নামে ৩৫টি মামলা দেওয়া হয় এবং ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে কারাগারে বন্দি থাকতে হয়েছে।
১০. মশ্মিমনগর ইউনিয়ন: এম এ গফুর
মশ্মিমনগর ইউনিয়নে মাঠপর্যায়ে দারুণ প্রভাবশালী ও সুসংগঠিত নেতা হলেন সাবেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এম এ গফুর। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যখন দলের চরম ক্রান্তিকাল ছিল এবং অনেকেই ভয়ে নিশ্চুপ ছিলেন, তখন এম এ গফুর বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন। রাজপথে দলের প্রতিটি কর্মসূচি সফল করতে গিয়ে একাধিকবার নির্মম পুলিশি হয়রানির শিকার হয়েছেন। ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে থাকার কারণে জরিপে তিনি বেশ এগিয়ে আছেন।
১১. চালুহাটি ইউনিয়ন: দুই জন প্রার্থী আলোচনার শীর্ষে
ক) মোঃ মঈনুদ্দীন: চালুহাটি ইউনিয়নে বিএনপির অন্যতম জনপ্রিয় মুখ মোঃ মঈনুদ্দীন। ত্যাগ, সততা আর ইস্পাতকঠিন দূরদর্শিতার মাধ্যমে তিনি আজ এই ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম পরিচিত মুখ। গত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তার নামে ৪টি মামলা দেওয়া হয়। সদালাপী ও ত্যাগী এই নেতা বরাবরই এলাকায় বিএনপির জন্য এক নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে পরিচিত।
খ) মোঃ রবিউল ইসলাম: চালুহাটি ইউনিয়নে তৃণমূলের আস্থার শেষ আশ্রয়স্থল ও সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী নেতা জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম। বর্তমানে তিনি উপজেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং মনিরামপুর উপজেলার ত্যাগী নেতাদের তালিকায় একদম প্রথম সারিতে রয়েছেন। বিগত আওয়ামী আমলে তার ওপর নেমে এসেছিল নির্মম নির্যাতনের স্টিম রোলার। তৃণমূলের সাধারণ ভোটারদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা এখন আকাশচুম্বী।
১২. শ্যামকূড় ইউনিয়ন: এস এম আনিছুর রহমান লিটন
শ্যামকূড় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর দৌড়ে সবার উপরে অবস্থান করছেন জনাব এস এম আনিছুর রহমান লিটন । তিনি এই ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়নের জনপ্রিয় বিএনপি নেতা। তিনি ছিলেন ক্রসফায়ারের আসামি। বিগত আমলে তার নামে ২২টি রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি ৫ বার জেল খাটেন। এলাকায় তার পরিচ্ছন্ন ইমেজ এবং সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে পাশে থাকার অভ্যাসের কারণে ভোটারদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।
১৩. খানপুর ইউনিয়ন: খান সফিয়ার রহমান
খানপুর ইউনিয়নে বিএনপির শক্ত কাণ্ডারি হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব খান সফিয়ার রহমান। বিগত স্বৈরাচারী আমলে রাজপথে সক্রিয় থাকায় তার নামে ১৮টি মামলা দায়ের করা হয় এবং ৫ বার তাকে কারাবরণ করতে হয়। এই লড়াকু নেতা বর্তমানে ইউনিয়নের অন্যতম কাণ্ডারি এবং ভোটারদের মন জয় করে নির্বাচনী দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
১৪. দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন: হারুন অর রশীদ
দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী তালিকায় আলোচনার শীর্ষে আছেন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব জনাব হারুন অর রশীদ। সাধারণ মানুষের কাছে একজন সৎ, বিনয়ী ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের মানুষ হিসেবে তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। আওয়ামী আমলে তার নামে মামলা ছিল ১টি এবং তিনি ১ বার কারাবরণ করেন।
১৫. কুলটিয়া ইউনিয়ন: তৈহিদ মিজানুর রহমান
এই ইউনিয়নের তৃণমূলের রাজনীতিতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও পরিচিত নাম তৈহিদ মিজানুর রহমান, যিনি বর্তমানে মনিরামপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। বিগত আমলে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। তার নামে আওয়ামী প্রশাসন মামলা দিয়েছিল ২৪টি এবং তিনি জেলে গিয়েছিলেন ৯ বার। শত ঝড়-ঝাপটা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির পরও তিনি মাঠ ছাড়েননি, দলের পতাকা ধরে রেখেছেন শক্ত হাতে। বর্তমানে তিনি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের পাশে থেকে ইউনিয়নের শীর্ষ প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন।
১৬. নেহালপুর ইউনিয়ন: হরিচাঁদ মল্লিক
১৬ নম্বর নেহালপুর ইউনিয়নে বিএনপির এক অনন্য ত্যাগী ও আদর্শিক নেতার নাম হরিচাঁদ মল্লিক। বর্তমানে তিনি মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য। বিএনপি করার অপরাধে বিগত আওয়ামী আমলে তার ওপর অমানুষিক ও বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে। বিগত ১৭ বছর স্বৈরাচারী আমলে বিএনপির রাজনৈতিক মিছিল, মিটিং, সভা-সমাবেশ সফল করতে এবং ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীদের জেল-জুলুম ও জামিনের ব্যবস্থা করতে তিনি নেপথ্যে থেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তার নামে মামলা ছিল ৮টি এবং জেলে গিয়েছিলেন বেশ কয়েকবার।
১৭. মনোহরপুর ইউনিয়ন: মোঃ আকতার ফারুক মিন্টু
এই ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী তালিকায় বেশ আলোচনায় আছেন সদালাপী ও ত্যাগী নেতা মোঃ আকতার ফারুক মিন্টু, যিনি বর্তমানে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বর্তমানসহ তিনি এই ইউনিয়নের তিন তিন বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আওয়ামী আমলে তার নামে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়। ইউনিয়নের বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে একজন সৎ এবং পরিচ্ছন্ন ইমেজের মানুষ হিসেবে তার সুপরিচিতি রয়েছে।
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার এই ১৬টি ইউনিয়নের সার্বিক মাঠচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সম্ভাব্য প্রত্যেক প্রার্থীই বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে দলীয় আদর্শ ধরে রেখেছেন। তৃণমূলের সাধারণ ভোটারদের মতে, এবার যেহেতু দলীয় প্রতীকের বাধ্যবাধকতা বা চাপ নেই, তাই প্রার্থীর ব্যক্তিগত সততা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বিপদে-আপদে মানুষের পাশে থাকার ইতিহাসই জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবে। এখন দেখার বিষয়, মাঠের এই জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের মধ্য থেকে শেষ পর্যন্ত কার ওপর আস্থা রাখে বিএনপির নীতিপ্রাধান্য মহল। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে বেশ কয়েকজন দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মী বহিষ্কার বা কারো কারো ইউনিয়নের কমিটি বিলুপ্ত করার ঘটনাও ঘটেছে, যা তৃণমূলের রাজনৈতিক সমীকরণে আলাদা প্রভাব ফেলতে পারে।