
শার্শা (যশোর) প্রতিনিধি:
শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাহউদ্দিন মুকুলের একটি আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, মেজবাহউদ্দিন মুকুল একই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি কামাল মোল্লাকে পরম আদরে নিজ হাতে মদ খাইয়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ, ঘৃণা ও চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের দিন এই যুবলীগ নেতা কামাল মোল্লা তার সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসাবাড়িতে দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দেন। সে সময় তিনি হ্যান্ডমাইকে হুমকি দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন—‘বিএনপির কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে আসলে তাকে ২ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে, অন্যথায় তার দুই পা কেটে নেওয়া হবে।’
বিগত দিনে বিএনপির কর্মীদের ওপর এমন ভয়াবহ নির্যাতন চালানো আওয়ামী লীগ নেতার সাথে যুবদল নেতা মুকুলের মদের পার্টিতে মেতে ওঠার ঘটনাটিকে দলের ত্যাগী কর্মীরা সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না। মুকুল আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদে প্রতিদ্বন্দিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং একই সাথে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী বলেও জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন বিএনপি কর্মী অভিযোগ করে বলেন, “এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। সামনে নির্বাচন, তাই ভোটের আসায় মুকুল চিহ্নিত আওয়ামী নেতাদের মনরঞ্জনে ব্যস্ত। ৫ই আগস্টের পট পরিবর্তনের পর থেকেই মুকুল এলাকার চিহ্নিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে ওঠাবসা করছেন এবং তিনি এলাকায় মাদকের অন্যতম মূল এজেন্ট হিসেবে পরিচিত।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মেজবাহউদ্দিন মুকুল জানান, “ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি মূলত গত ৫ই আগস্ট ২৪ এর রাতের এক আনন্দ উদযাপনের। সেখানে কোনো আওয়ামী লীগের লোক উপস্থিত ছিল না। আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প সাজানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাহেব আলী বলেন, “এটি একটি অত্যন্ত ঘৃণ্য ও অনৈতিক কাজ। বিএনপি কখনোই এ ধরনের অপকর্ম ও শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ বরদাস্ত করবে না। বিষয়টির সঠিক বিচার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা ই উপজেলা বিএনপির হাই কমান্ডকে অবহিত করবো।”