1. live@dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com
  2. info@www.dailyjagrotobd.com : - :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে  শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট এবার: প্রধানমন্ত্রী অভয়নগরে সরকারি ইউরিয়া সার উধাও, ঠিকাদারি কর্মকর্তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল চলিশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিউর রহমান আটক চৌগাছা থানার ওসি মামুনকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘বিএনপি কর্মী’ সাজিয়ে পুলিশকে চাপে ফেলার চেষ্টা: চৌগাছায় বিতর্কের ঝড় খুলনায় সাত সকালে বিএনপি নেতাকে গুলি, সাবেক জামাইকে খুঁজছে পুলিশ ঘুষের টাকা না পেয়ে বিএনপি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওসি মামুনের বিরুদ্ধে  অভয়নগরের বিন হাসানের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আরও এক প্রতারণা মামলা

রাজপথের লড়াকু সৈনিক যখন নিজ দলেই উপেক্ষিত: মেজবাহ উদ্দিন মুকুলের ত্যাগের গল্প

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৪৮ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি, যশোর:
শূন্য দশকের কথা। রাজপথের প্রতিটি কর্মসূচিতে যিনি ছিলেন সামনের সারিতে, বিএনপির আদর্শকে ধারণ করে যার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল—আজ তিনি রাজনৈতিক জীবনের এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি। বিএনপির রাজনীতি ও আদর্শের প্রয়োজনে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন থেকে যিনি বারবার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন, নিজের অর্পিত দায়িত্ব থেকে কখনো পিছপা হননি, তিনি যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মেজবাহ উদ্দিন মুকুল।
পারিবারিক সূত্রেই মুকুলের বিএনপির রাজনীতিতে আসা। তার বাবা ছিলেন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক। পিতার উত্তরসূরি হিসেবে মুকুলও প্রায় ২০ বছর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির প্রতি তার নিবেদিত মানসিকতার খেসারত দিতে গিয়ে বিগত ১৭ বছরে তাকে সহ্য করতে হয়েছে অমানুষিক নির্যাতন।
২০০৩ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা হামলা চালালে ইউনিয়ন বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেজবাহ উদ্দিন মুকুল মামলার বাদী হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে এই মামলার জের ধরে আসামিদের চাঁদা দিতে বাধ্য হওয়াসহ চরম হয়রানির শিকার হতে হয় তাকে।
শুধু মামলা-হামলাই নয়, ২০১১ সালে বাহাদুরপুর ইউনিয়নে তার মাছের ঘেরের পাশের বাগান থেকে প্রায় ১২ লক্ষ টাকার গাছ জোরপূর্বক কেটে নেয় এবং বাহাদুরপুর বাজারে তার মালিকানাধীন একটি একতলা পাকা দোকান ঘর দখল করে নেয় তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা।
২০১৫ সালে শীতের রাতে মুকুলের পরিবারকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ বসতবাড়িতে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে পরবর্তীতে তাকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করা হয়। বাহাদুরপুর ব্রিজের ওপর মুকুল ও তার ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কোরবানকে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘিরে ফেলা হলে তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বাহাদুরপুর বাজারে আশ্রয় নেন। সেখানে সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের হাতুড়িপেটা করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে বর্তমান শার্শা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব নুরুজ্জামান লিটন দ্রুত প্রাইভেটকার পাঠিয়ে তাদের উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে তৎকালীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মুকুলের বিরুদ্ধে ৩টি নাশকতার মামলাসহ মোট ৪টি রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী শাসনের দীর্ঘ ১৭ বছরের মধ্যে প্রায় ১২ বছরই তিনি নিজ বাড়িতে রাত কাটাতে পারেননি।
এত অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করার পরও, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর মুকুল কারো ওপর প্রতিশোধ নেননি; সব বিচার সৃষ্টিকর্তার ওপর সোপর্দ করে তিনি জড়িয়ে পড়েন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কাজে। তার এই ত্যাগ ও গুণাবলীর কারণে বাহাদুরপুর ইউনিয়নবাসী তাকে নিজ ওয়ার্ডের মেম্বার হিসেবে দেখতে চায়। একইসাথে তিনি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী।

সম্প্রতি মুকুলের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে রাজনৈতিক লক্ষ্য ভেস্তে দেওয়ার জন্য দলের ভেতরেরই কিছু সুবিধাবাদী গোষ্ঠী চক্রান্ত শুরু করেছে। গত কয়েকদিন ধরে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে মোঃ মেজবাহ উদ্দিন মুকুল আক্ষেপের সাথে জানান:
“বিএনপির রাজনীতির জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি, রক্ত দিয়েছি, শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেছি। কিন্তু দল পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আসার পর কেউ বলতে পারবে না আমি কারো সাথে কোনো অন্যায় বা জুলুম করেছি। আমি আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে মেম্বার পদপ্রার্থী এবং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী। আমার রাজনৈতিক সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল চক্রান্ত করে যাচ্ছে। তবে আমি জানি আমার সততা ও দলের প্রতি দায়বদ্ধতা কতটুকু। এসব অপপ্রচার চালিয়ে আমাকে লক্ষ্যচ্যুত করা যাবে না। নিজ দল এবং ইউনিয়নবাসীর ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ও মনোবল রয়েছে।”
ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের নোংরা অপপ্রচারে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের সচেতন মহল মনে করেন, মুকুলের মতো দীর্ঘদিনের নির্যাতিত ও নিবেদিত প্রাণ নেতার পাশে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের শক্ত হয়ে দাঁড়ানো উচিত।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট