
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ-ভারতে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহারের দাবি, জমি নিয়ে মামলা; হুন্ডি ও মানবপাচারের অভিযোগও
নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর গ্রামে নিজের ভাইয়ের ওয়ারেশসূত্রে পাওয়া ৬৯ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে টুটুল মুখার্জীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতে ভিন্ন নাম-পরিচয় ও জন্মতারিখ ব্যবহার, প্রতারণা, হুন্ডি এবং মানবপাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টুটুল মুখার্জীর ভাই উত্তম কুমার মুখার্জী ওয়ারেশসূত্রে পাওয়া ৬৯ শতাংশ জমি দলিল নম্বর ৫০৯-এর মাধ্যমে অভয়নগয়ের সিংগাড়ী গ্রামের হাফিজ মোল্লার কাছে বিক্রি করে ভারতে চলে যান। এরপর টুটুল বাংলাদেশে ফিরে এসে ওই জমি দখলের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। জমির ক্রেতা হাফিজ মোল্লার দাবি, জমি দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্যে টুটুল নড়াইল সহকারী জজ আদালতে দলিল জাল-জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করে তাকে হয়রানি করছেন। ফলে বৈধভাবে কেনা জমির দখল ও মালিকানা নিয়ে তিনি বিপাকে পড়েছেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, বাংলাদেশে টুটুল মুখার্জী নামে পরিচিত হলেও ভারতে ‘কুটুল মুখার্জী’ বা ‘শ্রী কুটুল মুখোপাধ্যায় নামে পরিচয় ব্যবহার করেন তিনি। ভারতীয় নথিতে তার জন্মতারিখ ৯ ডিসেম্বর ১৯৭৫ এবং বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রে ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ উল্লেখ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার দক্ষিণ হাবড়া এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে ভারতীয় পাসপোর্ট, আধার ও রেশন কার্ড সংগ্রহ এবং ২০১২ সালে ৪৭০৭ নম্বর দলিলে ৮ শতক জমি কেনার তথ্য রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এবং ভারতে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবি উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে টুটুল মুখার্জীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভারতে ছদ্মনামে নাগরিকত্ব নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমি ভারতে নাগরিকত্ব নিয়েছি ছদ্মনামে। তবে তিনি বাংলাদেশের নাম-ঠিকানা সঠিক আছে কি না, তা যাচাই করার কথা বলেন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল। তবে তদন্ত বা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।