1. live@dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com
  2. info@www.dailyjagrotobd.com : - :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে  শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট এবার: প্রধানমন্ত্রী অভয়নগরে সরকারি ইউরিয়া সার উধাও, ঠিকাদারি কর্মকর্তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল চলিশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিউর রহমান আটক চৌগাছা থানার ওসি মামুনকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘বিএনপি কর্মী’ সাজিয়ে পুলিশকে চাপে ফেলার চেষ্টা: চৌগাছায় বিতর্কের ঝড় খুলনায় সাত সকালে বিএনপি নেতাকে গুলি, সাবেক জামাইকে খুঁজছে পুলিশ ঘুষের টাকা না পেয়ে বিএনপি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওসি মামুনের বিরুদ্ধে  অভয়নগরের বিন হাসানের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আরও এক প্রতারণা মামলা

স্বামীকে ভাই স্ত্রীকে বোন ডাকলেই কি ভেঙে যায় বৈবাহিক সম্পর্ক

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

ইসলামী শরিয়তে স্পষ্ট বিধান, শুধু সম্বোধন নাকি যিহার? স্বামী-স্ত্রীর মুখের কথার পেছনে নিয়ত ও অর্থই নির্ধারণ করবে শরিয়তি বিধান

স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ভালোবেসে কিংবা সম্মান দেখিয়ে অনেক সময় ভাই, বোন, আপু,  বা এ ধরনের শব্দে সম্বোধন করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী স্ত্রীকে বোন বললে কিংবা স্ত্রী স্বামীকে ভাই বললে কি তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়ে? এ ধরনের কথাকে কি যিহার বলা হবে?

ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বুঝতে হলে শব্দের পাশাপাশি কথার উদ্দেশ্য, প্রসঙ্গ ও নিয়ত বিবেচনা করতে হয়। শুধু ভাই, বা বোন সম্বোধন করলেই বিয়ে ভেঙে যায় না, সাধারণভাবে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ভাই বা বোন বলে সম্বোধন করলে তালাক হয়ে যায় না এবং বৈবাহিক সম্পর্কও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। যেমন, কোনো স্ত্রী স্বামীকে সম্মান বা স্নেহের কারণে বলেন, ভাই, একটু এদিকে আসবেন? কিংবা স্বামী স্ত্রীকে বলেন, বোন, তুমি এটা নিয়ে এসো। যদি এখানে আপন ভাই-বোন বোঝানো বা স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম করার উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে শুধু শব্দ ব্যবহারের কারণে বিবাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, এমন বিধান নেই।

তবে স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্বোধন এড়িয়ে চলাই অধিক সতর্কতাপূর্ণ, কারণ কিছু বিশেষ বাক্য শরিয়তে গুরুতর অর্থ বহন করতে পারে।

যিহার’ কী?

কুরআনে যিহার-এর একটি স্পষ্ট বিধান রয়েছে। স্বামী যখন নিজের স্ত্রীকে এমন কোনো নারী আত্মীয়ের সঙ্গে তুলনা করেন, যিনি তার জন্য চিরতরে মাহরাম, বিশেষ করে মায়ের সঙ্গে, এবং এর মাধ্যমে স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম বোঝান, তখন সেটিকে যিহার বলা হয়।

আল্লাহ বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে যিহার করে, তারা তাদের মাতা নয়…

এরপর আল্লাহ যিহারের কাফফারার বিধান বর্ণনা করেছেন। সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত ২–৪-এ এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে।

স্ত্রীকে বোন বললেই কি যিহার হবে?

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কথার প্রকৃত অর্থ ও উদ্দেশ্য। স্বামী যদি স্ত্রীকে শুধু সামাজিক বা পারিবারিক সম্বোধনের মতো করে বোন বলেন, সাধারণভাবে সেটিকে যিহার বলা হবে না।

কিন্তু যদি তিনি এমনভাবে বলেন, তুমি আমার বোনের মতো, তাই তুমি আমার জন্য হারাম, অথবা স্ত্রীকে নিজের মাহরাম নারীর সঙ্গে এমন তুলনা করেন যার মাধ্যমে স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম বোঝানো উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে বিষয়টি যিহারের পর্যায়ে যেতে পারে।

অর্থাৎ শুধু বোন শব্দটি উচ্চারণ করলেই যিহার হয়ে যায়, এ কথা সঠিক নয়।

স্ত্রী স্বামীকে ভাই বললে কী হবে?

স্ত্রী স্বামীকে ভাই বলে সম্বোধন করলেও সাধারণভাবে তালাক বা যিহার সংঘটিত হয় না। কারণ যিহারের মূল বিধান স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম করার বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তবে মুসলিম দম্পতির জন্য এমন শব্দ ব্যবহার না করাই উত্তম, যাতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের পরিবর্তে মাহরাম সম্পর্কের ধারণা তৈরি হয়।

যিহার হলে কী হবে?

যিহার তালাক নয়। অর্থাৎ যিহার হয়ে গেলে স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যায় না। কিন্তু যিহারের পর কাফফারা আদায় না করা পর্যন্ত স্ত্রীকে নিয়ে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করা বৈধ নয়।

কুরআনে কাফফারার ধারাবাহিকতা বলা হয়েছে,

প্রথমত: একজন দাস মুক্ত করা।

দ্বিতীয়ত: তা সম্ভব না হলে টানা দুই মাস রোজা রাখা।

তৃতীয়ত: সেটিও সম্ভব না হলে ৬০ জন দরিদ্রকে খাবার খাওয়ানো।

এ বিধান সূরা আল-মুজাদালাহ ৩–৪ নম্বর আয়াতে এসেছে।

কথার আগে সতর্কতা জরুরি

ইসলাম মানুষের মুখের কথার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক করেছে। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় রাগের মাথায়, মজা করে বা অভ্যাসবশত এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়, যার শরিয়তি অর্থ গুরুতর হতে পারে।

তুমি আমার বোন, তুমি আমার মায়ের মতো, তুমি আমার জন্য হারাম, এসব বাক্যের বিধান এক নয়। কোন বাক্য কোন পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে, বক্তার উদ্দেশ্য কী ছিল এবং স্থানীয় ফিকহের বিধান কী, এসব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দিতে হয়।

তালাক ও যিহার এক বিষয় নয়

অনেকের ধারণা, স্ত্রীকে বোন বললেই তালাক হয়ে যায়। এটি সঠিক নয়।

তালাক হলো বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করার শরিয়তি প্রক্রিয়া। আর যিহার হলো স্ত্রীকে এমন মাহরাম নারীর সঙ্গে তুলনা করা, যার মাধ্যমে স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম করার অর্থ প্রকাশ পায়। যিহারের জন্য কুরআনে পৃথক কাফফারার বিধান রয়েছে।

তাহলে স্বামী-স্ত্রী কীভাবে সম্বোধন করবেন?

স্বামী-স্ত্রীর জন্য পরস্পরকে স্বামী, স্ত্রী, প্রিয়তম/প্রিয়তমা, নাম বা প্রচলিত সম্মানজনক সম্বোধনে ডাকা নিরাপদ। ভাই বা বোন শব্দটি যদি পারিবারিক বা সামাজিক সম্বোধন হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং এতে বৈবাহিক সম্পর্ক অস্বীকারের কোনো উদ্দেশ্য না থাকে, তাহলে শুধু শব্দটির কারণে বিবাহ ভেঙে যায় না।

তবে শরিয়তি সন্দেহ সৃষ্টি করে এমন শব্দ এড়িয়ে চলা উত্তম।

কেউ যদি বাস্তবে তার স্ত্রীকে বোন, মা বা অন্য কোনো মাহরাম নারীর সঙ্গে তুলনা করে কোনো নির্দিষ্ট বাক্য বলে থাকেন, তাহলে শুধু সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক উত্তর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। ঠিক কী বাক্য বলা হয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে বলা হয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, এসব হুবহু জানিয়ে একজন নির্ভরযোগ্য আলেম/মুফতির কাছে ফতোয়া নেওয়া উচিত। শুধু সম্বোধন হিসেবে স্ত্রীকে বোন বা স্বামীকে ভাই বলা মাত্রই বিয়ে ভেঙে যায় না। কিন্তু স্ত্রীকে নিজের জন্য হারাম করার উদ্দেশ্যে বা মাহরাম নারীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কের তুলনা করে বলা হলে যিহারের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে। তাই এমন শব্দ ব্যবহারে সতর্ক থাকা এবং সন্দেহ হলে নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

ধর্মীয় সূত্র: আল-কুরআন, সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত ২–৪; যিহার সম্পর্কিত সহিহ হাদিস ও ফিকহের বিধান।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট