1. live@dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com
  2. info@www.dailyjagrotobd.com : - :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে  শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট এবার: প্রধানমন্ত্রী অভয়নগরে সরকারি ইউরিয়া সার উধাও, ঠিকাদারি কর্মকর্তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল চলিশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিউর রহমান আটক চৌগাছা থানার ওসি মামুনকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘বিএনপি কর্মী’ সাজিয়ে পুলিশকে চাপে ফেলার চেষ্টা: চৌগাছায় বিতর্কের ঝড় খুলনায় সাত সকালে বিএনপি নেতাকে গুলি, সাবেক জামাইকে খুঁজছে পুলিশ ঘুষের টাকা না পেয়ে বিএনপি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওসি মামুনের বিরুদ্ধে  অভয়নগরের বিন হাসানের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আরও এক প্রতারণা মামলা

জানাজার সময় দুই শিশুর মরদেহ নিতে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ, সাময়িক বরখাস্ত ২ সদস্য

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬
  • ৭৮ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

সুরতহাল প্রতিবেদনে ‘ত্রুটি ও অসংগতি’র অভিযোগ; মরদেহ কাফন সরানোর ঘটনায় উত্তেজনা, অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে উদ্ধার

নাটোরের গুরুদাসপুরে নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদন করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের দুই সদস্য। জানাজার সময় মরদেহ থানায় নেওয়ার চেষ্টা এবং কাফনের কাপড় সরানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর তদন্তে ত্রুটি ও অসংগতির অভিযোগে গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার (৪৫) ও কনস্টেবল রাকিব হোসেনকে (৩৬) সাময়িক বরখাস্ত করে নাটোর পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল রাকিব ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাঁদের তদন্তে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি ও অসংগতি পাওয়া গেছে। এ কারণে তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে নন্দকুঁজা নদীতে ডুবে মারা যায় দুই শিশু—ফারহান ইসলাম (৮) ও লাম ইসলাম। ফারহান চন্দ্রপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে এবং লাম একই গ্রামের বাবুল ইসলামের ছেলে। তারা দুজনই চন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, দুপুরে খাওয়ার পর দুই শিশু নদীর তীরের একটি আমবাগানে খেলছিল। একপর্যায়ে তারা নদীর কিনারায় গোসল করতে নামে। দুজনের কেউই সাঁতার জানত না। পরে নদীর স্রোতে তারা তলিয়ে যায়। নদীর পাড়ে থাকা এক ব্যক্তি শিশু দুটিকে পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। কিছুক্ষণ পর শিশু দুটির মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

জানাজার সময় উত্তেজনা সন্ধ্যায় দুই শিশুর মরদেহ ওয়াপদা বাজারসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী সামসুল হকসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সামসুল হকের ভাষ্য, জানাজার প্রস্তুতির সময় দুই পুলিশ সদস্য সেখানে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কথা বলে মরদেহ দুটি থানায় নিতে চান। একপর্যায়ে মরদেহের কাফনের কাপড় সরিয়ে অনাবৃত করা হয়েছে, এমন অভিযোগ ওঠে। এতে উপস্থিত লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মরদেহ নিয়ে পুলিশের এ ধরনের তৎপরতায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কয়েকজন উত্তেজিত ব্যক্তি দুই পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হন। তাঁদের কিল-ঘুষি মারার পাশাপাশি ইটপাটকেলও নিক্ষেপ করা হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা ওয়াপদা বাজারের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। সামসুল হক দাবি করেন, সুরতহালের সময় পুলিশের আচরণে গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। উত্তেজিত লোকজন পুলিশ সদস্যরা যে দোকানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেটি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দুই পুলিশ সদস্য গ্রামবাসীর কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান। এরপরও তাঁরা হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি। গুরুদাসপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম রিয়াজুল হাসান বলেন, দুই পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, হামলার পর দুই সদস্য থানায় খবর দেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের বা কাউকে আটক করা হয়নি। এদিকে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। নোট: দুই শিশুর মরদেহ নিয়ে পুলিশের তৎপরতা, স্থানীয়দের হামলা এবং পুলিশ সদস্যদের সাময়িক বরখাস্ত, এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটনাটি তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের পাশাপাশি পুলিশের তদন্তের ফলাফলই ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট