
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিংগাড়ী গ্রামে মো. নাজিম শেখ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ সুদের কারবার, মাদক ব্যবসা এবং ঋণের টাকা আদায়ে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দাপটে একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা আতঙ্কে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিংগাড়ী গ্রামের মৃত মজিদ শেখের ছেলে নাজিম শেখ দীর্ঘদিন ধরে সুদের কারবারের সঙ্গে জড়িত। ঋণের টাকা পরিশোধের পরও অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং টাকা দিতে না পারলে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনই ভুক্তভোগী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাঁর দাবি, নাজিম শেখের কাছ থেকে তিনি এক লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও এখন তাঁকে আবারও এক লাখ টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও নাজিম বিভিন্নভাবে ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করছেন। টাকা পরিশোধের জন্য সময় চাইলেও তিনি সময় দিতে রাজি নন। বরং আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
একই গ্রামের আরেক ব্যক্তিও নাজিম শেখের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ শুধু সুদের কারবারেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ও অভিভাবকের অভিযোগ, নাজিম শেখ মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর তাঁর বাড়ির পশ্চিম পাশের বাগান এলাকায় বিভিন্ন বয়সী যুবকের আনাগোনা বাড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের কারণে উঠতি বয়সী অনেক যুবক বিপথে যাচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুদের কারবার ও মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নাজিম শেখের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাঁদের মতে, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি একই সঙ্গে অবৈধ সুদের কারবার, মাদক ব্যবসা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকে, তাহলে বিষয়টি উপেক্ষা না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. নাজিম শেখ মুঠোফোনে সুদের কারবারের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি বলরাম মল্লিকের কাছে ধার করা টাকা পাব। আমাকে টাকা না দিয়ে সে ঘুরাচ্ছে।
বলরাম মল্লিক এক লাখ টাকার মধ্যে কত টাকা পরিশোধ করেছেন, এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজিম শেখ বলেন, আমার মনে নেই। একবার ৩০ হাজার টাকা দিয়েছিল বলে মনে আছে। বাকি বিষয়গুলো আমার জামাই বলতে পারবে।
মাদক ব্যবসার অভিযোগও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন নাজিম শেখ। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি তাঁর জামাইয়ের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার কথা জানিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।