
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইলে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রাবাসে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোরে নেওয়ার পথে মারা গেছে ১২ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র সৈয়দ সুলায়মান ইসলাম। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন, ইউসুফ হায়দার, আসিফুর রহমান ও পাহাদ শেখ। নিহত সৈয়দ সুলায়মান ইসলাম নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া গ্রামের মারকাযুল কুরআন মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষার্থী। সে রামচন্দ্রপুর গ্রামের সৈয়দ ইকরাম আলীর ছেলে।
স্বজনদের অভিযোগ, মারধরের পর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু
নিহতের বাবা সৈয়দ ইকরামুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, বুধবার সকালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের জানানো হয়, সুলায়মান অসুস্থ হয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মাদ্রাসায় গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোরে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই পথেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের বাবার অভিযোগ, মাদ্রাসার শিক্ষকের মারধরের কারণেই তার ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি’
তবে শিক্ষার্থীকে মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
মারকাযুল কোরআন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নাজমুস সায়াদাৎ আল মামুন বলেন, সুলায়মান নামের ওই শিক্ষার্থীকে মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক কোনো ধরনের নির্যাতন করেননি।
তিনি বলেন, চিকিৎসা ও তদন্তে যদি নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় এবং এর সঙ্গে মাদ্রাসার কেউ জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী যে কোনো শাস্তি মেনে নেওয়া হবে। এবিষয়ে নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ চিকিৎসকের রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর জানা যাবে। তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাদ্রাসার তিন শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়েছিল কি না এবং তার মৃত্যুর সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তদন্তের পরই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ১২ বছরের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।