
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজনীতিতে কিছু মানুষ থাকেন যারা আজীবন নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অন্যের কল্যাণ ও মানুষের মঙ্গলে আত্মনিয়োগ করেন। নিজস্ব স্বপ্নপূরণের সুযোগ সামনে থাকা সত্ত্বেও যারা নিঃস্বার্থভাবে জনসেবায় বিলিয়ে দেন নিজেকে, তাদেরই একজন যশোর জেলার শার্শা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শার্শা উপজেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক জনাব মোঃ মিয়াদ আলী। বাহাদুরপুর ইউনিয়নে তৃণমূল বিএনপির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আদর্শকে ভালোবাসার ‘অপরাধে’ বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে তার বিরুদ্ধে ৫টি মিথ্যা, বানোয়াট ও গায়েবি নাশকতার মামলা দেওয়া হয়। পরিবার ও স্বজনদের মায়া ত্যাগ করে দিনের পর দিন তাকে জেলখানার অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটানো লেগেছে। কেবল মামলা-হামলায় ক্ষান্ত না হয়ে ক্ষমতার দাপটে তার সারাজীবনের উপার্জনে গড়ে তোলা ৭ বিঘা সম্পত্তি দখল এবং প্রিয় সিরিজের বাগান থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার গাছ কেটে নেওয়া হয়। এত জুলুম-নির্যাতনের পরও দলীয় আদর্শ থেকে তাকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত করা যায়নি; বরং প্রতিটি নিপীড়নের পর আরও বেগবান হয়ে রাজপথে ফিরে এসেছেন তিনি। গত ১৭ বছর ধরে উপজেলা ও ইউনিয়নের অধিকাংশ দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের সিংহভাগ দায়িত্ব তিনি সফলতার সাথে পালন করেছেন।
ঐতিহাসিক ৫ই আগস্টের রক্তঝরা দিনগুলোতে শার্শা উপজেলায় স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে অকুতোভয় বিপ্লবীদের সঙ্গে মিছিলের সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন মিয়াদ আলী। উপজেলা বিএনপির বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক জনাব নুরুজ্জামান লিটনের ছায়াতলে থেকে সেই উত্তাল দিনগুলোতে তিনি এক জাগ্রত প্রহরীর মতো লড়াই করে গেছেন।
দুঃসময়ে যখন অনেক তথাকথিত নেতার খোঁজ মেলেনি, তখন পুরো ইউনিয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মিয়াদ আলী। দিনের আলোয় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বাধার মুখে রাতে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চষে বেরিয়েছেন, গায়েবি মামলায় জর্জরিত নিঃস্ব কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি গিয়ে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং পকেটের শেষ সম্বল দিয়ে চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
এদিকে ৫ই আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ইউনিয়নে মাদক, চোরাচালান ও অন্যান্য অপকর্ম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী সুবিধাবাদী চক্রের সঙ্গে আঁতাত করে চলা একটি অংশ এখনও সক্রিয়। তবে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন মিয়াদ আলী।
ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের এক বিএনপি নেতা জানান, “মিয়াদ ভাই শতভাগ খাঁটি মানুষ। উনি নির্বাচনে দাঁড়ালে ভোটের বন্যা বয়ে যাবে, কারণ উনার মতো দরদী মানুষ এলাকায় দ্বিতীয়টি নেই।” রানিয়া বেগম নামের স্থানীয় এক গৃহবধূ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “মিয়াদ ভাই আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। যেকোনো বিপদে উনি ছায়া হয়ে পাশে থাকেন। মানুষের দুঃখ বুঝে সাহায্য করার মতো মন উনার আছে।”
দীর্ঘ ২৫ বছরের নীরব ত্যাগ ও নিঃস্বার্থ সেবার প্রতিদান হিসেবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মিয়াদ আলীকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায় বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আপামর জনতা।
জনগণের ভালোবাসার জবাবে মোঃ মিয়াদ আলী বলেন, “আমি উপজেলা বিএনপির এক সামান্য কর্মী। আমার রগে রগে বিএনপি ও বাহাদুরপুরের মাটি। পদ-পদবী আমার লক্ষ্য নয়; তবে দল ও ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ যদি চায়, তবেই আমি নির্বাচনে প্রার্থী হব। মহান আল্লাহর রহমতে জয়ী হতে পারলে বাহাদুরপুরকে মাদক, চোরাচালানমুক্ত এবং ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কার করে আগামী ২ বছরের মধ্যে একটি আদর্শ ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করব, ইনশাআল্লাহ।”
বাহাদুরপুরবাসীর বিশ্বাস, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের প্রতীক মিয়াদ আলী সুযোগ পেলে বাহাদুরপুর ইউনিয়ন একটি মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও সমৃদ্ধ মডেল ইউনিয়নে পরিণত হবে।