
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হিদিয়া ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের অপসারণ এবং নবগঠিত কথিত ‘পকেট কমিটি’ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগ তুলে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন বক্তারা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাদ্রাসার সামনে এলাকার সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় যুবসমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক অধ্যাপক রবিউল ইসলাম। বক্তব্য দেন সাবেক শিক্ষক মরফুদুল মোল্যা, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. সাইফুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মাহমুদুর রহমান বিলা, ভুক্তভোগী ফজলুর রহমান ও ডা. শাহিন বিশ্বাস।
এ ছাড়া এলাকার সাধারণ মানুষের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মো. বোরহান উদ্দীন, আব্দুল জলিল গাজী, মো. মারুফ হোসেন, শাহাবুদ্দিন, রফসান শেখ, হিমেল মোল্যা ও ইক্তিয়ার মোল্যাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিগত প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে মাদ্রাসা পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিজেদের পছন্দের লোকজনকে নিয়ে কথিত ‘পকেট কমিটি’ গঠন করে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা। মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে নবগঠিত কথিত ‘পকেট কমিটি’ অবিলম্বে বাতিল করে নিয়মতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে অধ্যক্ষের অপসারণ, কথিত পকেট কমিটি বাতিল এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামীতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তবে অধ্যক্ষ মাওলানা সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।