
নিজস্ব প্রতিবেদক, মনিরামপুর:
ঝড়-ঝাপটা, রাজপথের রাজনৈতিক সংঘাত কিংবা দফায় দফায় মামলা-হামলা, কোনো কিছুই দমাতে পারেনি তাকে। যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার অন্তর্গত ৭ নম্বর খেদাপাড়া ইউনিয়নের রাজনৈতিক আকাশে জনাব মোঃ আজিবর রহমান এক ত্যাগ ও অবিচল নিষ্ঠার অনন্য নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কঠিন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও তিনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের আগলে রেখেছেন শক্ত হাতে। দুঃসময়ে দলের শক্ত কাণ্ডারি হিসেবে খেদাপাড়ার সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গড়ে তুলেছেন নিজের সুদৃঢ় অবস্থান।
২০০৩ সালে শহীদ রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলীয় মূলধারার রাজনীতিতে পদার্পণ করেন আজিবর রহমান। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পতাকাতলে থেকে কাজ করছেন তিনি।দলের প্রতি গভীর আনুগত্য ও তৃণমূল পুনর্গঠনে দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০২১ সালে থানা বিএনপির সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি ৭ নম্বর খেদাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন।
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংকটে, বিশেষ করে আওয়ামী আমলজুড়ে তিনি ইউনিয়ন বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।২০১৩ সালের চরম সংকটকালে খেদাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি যখন নানামুখী চাপের মুখে পড়ে, তখন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দলের হাল ধরেন আজিবর রহমান। এর জন্য তাকে সইতে হয়েছে চরম মূল্য.কারাবরণ ও আইনি হয়রানি: আওয়ামী আমলে তার বিরুদ্ধে ৭টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয় এবং তিনি ৫ বার কারাবরণ করেন। এসব মামলার অধিকাংশে আসামি করা হয়েছিল যশোর জেলার জনপ্রিয় জননেতা ও বর্তমান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে।গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মাসের পর মাস তাকে কাটাতে হয়েছে ফেরারী জীবন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তার বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বারবার বন্ধ করে দেওয়া হলেও তিনি তার অবস্থান থেকে পিছপা হননি।এলাকাছাড়া হওয়ার পরও যশোরের লালদিঘির মাঠ, খুলনা কিংবা ঢাকার পল্টনের উত্তাল রাজপথে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে তিনি সর্বদা প্রথম সারিতে থেকেছেন। একইসাথে আড়ালে থেকেও নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা ও খোঁজখবর রাখা অব্যাহত রেখেছেন।
আজিবর রহমানের পদচারণা কেবল রাজনৈতিক মঞ্চেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; ২০০০ সাল থেকে তিনি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অবদান রেখে আসছেন। এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সবসময় মুক্তহস্তে সাহায্য করেছেন।দুস্থ ও অসহায় মানুষের বিপদ-আপদে তিনি সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নিজে ফেরারী আসামি থাকা সত্ত্বেও খেদাপাড়ার একজন নেতা-কর্মীরও ক্ষতি হতে দেননি।সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর তিনি খেদাপাড়ার সার্বিক উন্নয়ন, তরুণ সমাজের কল্যাণ এবং স্থানীয় স্কুল-কলেজের সার্বিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে নিজেকে পূর্ণাঙ্গভাবে আত্মনিয়োগ করেছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, সততা ও বিপদে-আপদে পাশে থাকার কারণে খেদাপাড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ ও সাধারণ ভোটাররা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আজিবর রহমানকে খেদাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান।
৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির এক সিনিয়র নেতা:
“বিএনপির জন্য আজিবর ভাইয়ের যে ত্যাগ ও কষ্ট, তার সাথে অন্য কারও তুলনা চলে না। উনি দলের জন্য জীবন বাজি রেখেছেন। উনার মতো অন্যায়ের সাথে আপসহীন নেতা খেদাপাড়ার চেয়ারম্যান হলে এলাকা থেকে অন্যায়-জুলুম মুছে যাবে।”
ফরিদা পারভিন (স্থানীয় নারী নিবাসী):
“ইউনিয়নের নারীদের নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আজিবর ভাইয়ের মতো একজন সৎ ও আদর্শবান মানুষ দরকার। তিনি নারীদের সম্মান করতে জানেন এবং যেকোনো সমস্যায় সবার আগে এগিয়ে আসেন।”
দলীয় সিদ্ধান্ত ও আগামী দিনের দূরদর্শী ভাবনা জনগণের অগাধ ভালোবাসা ও প্রত্যাশা নিয়ে জনাব মোঃ আজিবর রহমান জানান:
“চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা আমার রয়েছে, তবে আমার কাছে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। জেলা ও উপজেলা বিএনপি যদি আমাকে খেদাপাড়াবাসীর সেবা করার সুযোগ দেয়, তবে আমি শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের আশাহত করব না। খেদাপাড়ার প্রতিটি পরিবারের সুখ-দুঃখের কথা আমার জানা। দল সুযোগ দিলে আগামী ২ বছরের মধ্যে খেদাপাড়া ইউনিয়নকে মনিরামপুর উপজেলার মধ্যে একটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।”
মোঃ আজিবর রহমান কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন; তিনি খেদাপাড়া ইউনিয়নের সহনশীলতা, প্রতিবাদ ও ত্যাগের এক জীবন্ত প্রতীক। জীবনের সোনালী সময়গুলোকে যিনি অবলীলায় উৎসর্গ করেছেন জনগণের অধিকার আদায়ে, জেল-জুলুম ও ফেরারী জীবন যাকে পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি, সেই পরীক্ষিত জননেতাকে ঘিরে আজ এক নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখছে খেদাপাড়াবাসী। সুসময়ে নয়, চরম দুঃসময়ে যিনি বুক পেতে আগলে রেখেছিলেন পুরো ইউনিয়নকে, সর্বস্তরের জনগণ আজ তাকেই তাদের যোগ্য অভিভাবক ও ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান হিসেবে পেতে ব্যাকুল। খেদাপাড়ার মাটি ও মানুষের সাথে তৈরি হওয়া এই আত্মিক বন্ধনই আগামী দিনে এক দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ খেদাপাড়া ইউনিয়ন গড়ার পথ সুগম করবে।