
অভয়নগর (যশোর):
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নে রাজপথের আন্দোলনে যিনি সর্বদা অগ্রভাগে ছিলেন, তিনি আর কেউ নন, শুভরাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সৈয়দ জাহাঙ্গীর কবির নাসিম। আওয়ামী বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বিরোধী দলীয় ক্ষমতার জাঁতাকলে সর্বাধিক অত্যাচার ও নিপীড়নের শিকার হয়েও মাঠ ছেড়ে যাননি এই জননেতা। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম আর জনগণের বিপদে-আপদে পাশে থাকার মাধ্যমে তিনি শুভরাড়াবাসীর আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে শুভরাড়া ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তালিকায় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে সৈয়দ জাহাঙ্গীর কবির নাসিম। দলীয় সততা, শিক্ষা-দীক্ষা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি উপজেলার রাজনীতিতে সবার শীর্ষে অবস্থান করছেন।
রাজনীতি শুধু ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সেবার জন্য—এই দর্শনকে লালন করেই দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন তিনি। বিশেষ করে বিগত সময়গুলোতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি ইউনিয়নের গরিব-দুঃখী মানুষকে আগলে রেখেছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত পবিত্র রমজান ও ঈদে তিনি সম্পূর্ণ নিজ খরচে ইউনিয়নের ৬০০ পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া তীব্র শীতে প্রায় ৫০০ অসহায় পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল পৌঁছান।
ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লালবানু অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,
“শীত হোক, ঈদ কিংবা পূজো—এই ছেলেটার হাত সব সময় খোলা। ও আমাদের সাহায্য না করলে গ্রামের অনেক মানুষ না খেয়ে মারা যেত। সমস্যা নিয়ে গেলে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয় না। ও নির্বাচনে দাঁড়ালে এক চান্সেই পাস করবে।
ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা নাসিমের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা স্মরণ করে জানান, চরম দুঃসময়ে যখন অনেকে আত্মগোপনে ছিলেন, তখনো নাসিম নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দল পুনর্গঠনে কাজ করেছেন। তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা—আগামী নির্বাচনে জাহাঙ্গীর কবির নাসিমকেই শুভরাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে মনোনীত করা উচিত, তা না হলে ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গত ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর যখন অনেকেই নিজস্ব সুবিধা আদায়ে ব্যস্ত, জাহাঙ্গীর কবির নাসিম তখন নেমে পড়েছেন সমাজ সংস্কারে। একাধারে দলীয় সংগঠনকে সুদৃঢ় করা এবং অন্যদিকে মসজিদ, মাদ্রাসা, বয়স্ক ভাতা নিশ্চিতকরণ ও যুবসমাজের কর্মসংস্থানে নিরলস কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এস. আর শুভরাড়া রানাগাতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এবং দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।
৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির এক কর্মী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“বিএনপির সুনাম রক্ষা এবং শুভরাড়ার সার্বিক মান উন্নয়নের জন্য নাসিম ভাইয়ের মতো একজন জনদরদী নেতাকে আমাদের চেয়ারম্যান হিসেবে খুব দরকার।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে সৈয়দ জাহাঙ্গীর কবির নাসিম জানান, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তিনি দলের জন্য এবং শুভরাড়াবাসীর জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করে আসছেন।
তিনি বলেন,
“চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচন করার আকাঙ্ক্ষা আমার আছে, তবে সবকিছুর ওপরে দলীয় সিদ্ধান্ত। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তবে আমি দলকে হতাশ করব না। শুভরাড়াবাসী যদি আমার ওপর আস্থা রেখে আমাকে জয়ী করেন, তবে রাস্তাঘাট, ব্রিজ, শিক্ষা, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা এবং যুব উন্নয়নের মাধ্যমে এই ইউনিয়নকে পুরো যশোর জেলার মধ্যে অন্যতম সেরা ইউনিয়নে পরিণত করব।”
শুভরাড়ার রাজপথের এই সংগ্রামী নেতাকে ঘিরেই এখন পরিবর্তনের নতুন স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা।