1. live@dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com
  2. info@www.dailyjagrotobd.com : - :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে  শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট এবার: প্রধানমন্ত্রী অভয়নগরে সরকারি ইউরিয়া সার উধাও, ঠিকাদারি কর্মকর্তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল চলিশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিউর রহমান আটক চৌগাছা থানার ওসি মামুনকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘বিএনপি কর্মী’ সাজিয়ে পুলিশকে চাপে ফেলার চেষ্টা: চৌগাছায় বিতর্কের ঝড় খুলনায় সাত সকালে বিএনপি নেতাকে গুলি, সাবেক জামাইকে খুঁজছে পুলিশ ঘুষের টাকা না পেয়ে বিএনপি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওসি মামুনের বিরুদ্ধে  অভয়নগরের বিন হাসানের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আরও এক প্রতারণা মামলা

গদখালী ইউনিয়ন বিএনপির ত্যাগী কাণ্ডারি অহিদুজ্জামান লিটু: রাজপথের লড়াই থেকে জনমানুষের আস্থার প্রতীক

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক, যশোর:

রাজনীতি কোনো এক দিন, এক মাস কিংবা এক বছরের ক্ষণস্থায়ী বিষয় নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও চলমান প্রক্রিয়া। রাজনীতির পথে ক্ষমতার মোহ ও লোভের হাতছানি থাকবেই, কিন্তু যিনি নিজের নীতিতে অটল থেকে লোভ ও ক্ষোভের ঊর্ধ্বে উঠতে পারেন, তিনিই সমাজের মানুষের কাছে আলোকিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গদখালী ইউনিয়নের রাজনীতিতে এমনই এক উজ্জ্বল উদাহরণ ইউনিয়ন বিএনপির সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক জনাব মো. অহিদুজ্জামান লিটু।

নব্বইয়ের দশকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু করা অহিদুজ্জামান লিটু সময়ের পরিক্রমায় ১৯৯৫ সালে ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় একই ওয়ার্ডের নির্বাচিত মেম্বার হিসেবে দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত কাউন্সিলে দলের সভাপতি হওয়ার সব সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে তিনি সাধারণ সম্পাদকের পদটি বেছে নেন, যা তৃণমূল বিএনপির সংগঠনকে সুসংগঠিত রাখতে ভূমিকা রাখে।

বিগত আওয়ামী শাসনকালে গদখালী ইউনিয়নে দলীয় নেতাকর্মীদের মূল আশ্রয়স্থল ছিলেন অহিদুজ্জামান লিটু। স্বৈরাচারবিরোধী প্রতিটি রাজপথের মিছিলে ও সভা-সমাবেশে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। এই অপসহীন অবস্থানের কারণে তাকে দিতে হয়েছে চড়া মাশুল। বিএনপি করার ‘অপরাধে’ তার বিরুদ্ধে দেওয়া হয় ৫টি মিথ্যা ও গায়েবি মামলা, আর জীবনের মূল্যবান সময় থেকে প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় কাটাতে হয় অন্ধ কারাকক্ষে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে তার পরিবার। লিটুর জ্যেষ্ঠ সন্তান, গদখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সফল সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সোহেল পারভেজও রেহাই পাননি শাসকদলের অमानবিক নির্যাতন থেকে। এক পর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সোহেল বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হন। তবে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে ২০২১ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং পিতার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। ফলে পিতা-পুত্র উভয়ের ওপরই নেমে আসে নির্যাতনের নতুন স্টিমরোলার। সব নির্যাতন সহ্য করেও তারা শহীদ জিয়ার দর্শনে হিমালয়ের মতো অবিচল থাকেন।

বিগত সরকারের নির্মম অত্যাচারের মুখে ইউনিয়নের অধিকাংশ কর্মী যখন দিশেহারা ও গৃহহারা, তখন অহিদুজ্জামান লিটু হয়ে উঠেছিলেন সবার আইনি ও মানবিক রক্ষাকবচ। নেতাকর্মীদের খোঁজ নেওয়া ও বিপদগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই ছিল তার প্রতিদিনের কাজ। এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনি পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

গত ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর গদখালীতে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে তিনি আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এবং অপসংস্কৃতি রুখতে সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে “অনলাইন জুয়াকে না বলি, খেলার মাঠে আসি” স্লোগানকে সামনে রেখে ‘শহীদ জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর আয়োজন করেছেন। এই টুর্নামেন্টের পরিচালনা করছেন তার যোগ্য সন্তান মো. সোহেল পারভেজ।

বর্তমানে মো. অহিদুজ্জামান লিটু ফতেহপুর বাজার মসজিদ ও ফতেহপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ফতেহপুর কাউন্সিল বাজারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

তার বিরল মানবিক গুণাবলী ও ত্যাগের কারণে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গদখালী ইউনিয়নবাসী তাকেই চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এক যুবদল নেতা আবেগ প্রকাশ করে বলেন, “লিটু ভাই শুধু একজন নেতাই নন, তিনি আমাদের অভিভাবক। অত্যন্ত সৎ ও উন্নয়নমুখী এই মানুষটি আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হলে সেটা হবে পুরো গদখালীবাসীর জন্য পরম সৌভাগ্য।”

দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও তাকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। স্থানীয় নারী ভোটার ফরিদা বেগম বলেন, “লিটু ভাই আমাগো ইউনিয়নের গর্ব। দলের জন্য কত জেল খেটেছে, কষ্ট করেছে! তাও সব সময় আমাগো সুখে-দুঃখে পাশে আছিল, এখনো আছে। উনি একজন খুব ভালো মানুষ ও নেতা।”

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা ও এলাকা নিয়ে স্বপ্নের কথা জানতে চাইলে অহিদুজ্জামান লিটু বলেন:

“আমার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মূল উদ্দেশ্যই হলো অবহেলিত গদখালীর সার্বিক উন্নয়ন। ফুল চাষের জন্য বিখ্যাত গদখালীকে ‘ফুলের রাজ্য’ বলা হলেও এখানে অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ব্রিজের ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন। আমার দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেয়, তবে আমি নির্বাচনে লড়ব। আর গদখালীর জনগণ যদি ভোটের মাধ্যমে সেবা করার সুযোগ দেয়, তবে ইনশাআল্লাহ আগামী দুই বছরের মধ্যে এই গদখালীকে যশোর জেলার একটি ‘আদর্শ ইউনিয়ন’ হিসেবে গড়ে তুলব।”

শত অত্যাচার, কারাবাস আর ত্যাগের বেদনায় তৈরি হওয়া এই বীর সেনানীকে আজ গদখালীবাসী তাদের ভাগ্যোন্নয়নের রূপকার হিসেবে বিশ্বাস করে। ত্যাগ, সততা ও গণমানুষের ভালোবাসাকে সম্বল করে গদখালী এখন অহিদুজ্জামান লিটুর নেতৃত্বেই এক নতুন ও সম্ভাবনাময় আগামীর স্বপ্ন বুনছে

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট