
যশোর প্রতিনিধি:
ক্ষমতার মোহে অন্ধ না হয়ে রাজনীতিকে জনসেবার মূল ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার রাজনীতিতে পরীক্ষিত নেতা ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান। গত ১৭ বছরের আওয়ামী শাসনের কঠিন ও উত্তাল সময়ে রাজনৈতিক নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও বারবার কারাবাসের মুখোমুখি হয়েও তিনি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি। প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে ইতিবাচক ও শিষ্টাচারের রাজনীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে তিনি আজ চৌগাছা উপজেলায় দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কাছে আস্থার এক অনন্য নাম।
৯০-এর দশকে পরিবারের রাজনীতির ধারাবাহিকতায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) রাজনৈতিক দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজপথে পা রাখেন আব্দুল মান্নান। চৌগাছা ডিগ্রি কলেজের সর্বোচ্চ ভোটে নির্বাচিত ছাত্রদল এর সহকারী সাধারন সম্পাদক ( AGS) হিসেবে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেন তিনি।
পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে যশোর জেলার প্রখ্যাত জননেতা মরহুম তরিকুল ইসলাম তার দক্ষতা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় মুগ্ধ হয়ে তাকে চৌগাছা থানা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করেন। একটানা ১৫ বছর অত্যন্ত সফলতার সাথে তিনি সেই গুরুদায়িত্ব পালন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী ১০ বছর আওয়ামী সরকারের সর্বোচ্চ প্রভাব ও দমন-পীড়নের সময়কালে উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদকের কঠিন দায়িত্ব সামলান। একদিকে যুবদলের সাংগঠনিক ভিত শক্ত রাখা, অন্যদিকে রাজপথে মিছিল, সভা-সমাবেশ পরিচালনা—দুটি কাজই অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সামলেছেন তিনি।
রাজনৈতিকভাবে দমাতে না পেরে এবং কোনো প্রলোভনে রাজি করাতে না পেরে তার ওপর নেমে আসে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নির্যাতনের চাবুক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ৯টি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয় এবং পরিবারের মায়া ত্যাগ করে ৭ বারে মোট ৪ মাসেরও বেশি সময় তাকে কারাভোগ করতে হয়। তবে কারাগারের প্রাচীর তার অদম্য রাজনৈতিক উদ্দীপনাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি; বরং যতবারই কারামুক্ত হয়েছেন, ততবারই দ্বিগুণ গতিতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে রাজপথে নেমেছেন।
ঐতিহাসিক ৫ই আগস্ট ২৪ এ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে যখন অনেক নেতাকর্মী গ্রেফতারের ভয়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন, তখন চৌগাছা উপজেলায় আন্দোলন সংগঠিত করা এবং বিএনপির এক দফা দাবির রূপরেখা বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করেন আব্দুল মান্নান।
৫ই আগস্টের পর যখন অনেকেই স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত, তখন আব্দুল মান্নান মনোযোগ দেন দল সুসংগঠিত করা ও এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজে। কোনো প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ না করে রাজনৈতিক সম্প্রীতি বজায় রাখায় তার তীব্র প্রতিপক্ষরাও আজ তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশিত ইতিবাচক রাজনীতি ও সুশাসনের বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন দিনরাত।
চৌগাছা সদর ইউনিয়নের কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে দলীয় কর্মী—সবার কাছেই আব্দুল মান্নান মানে সাম্য ও ন্যায়পরায়ণতার রূপকার। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার সুখ-দুঃখে তিনি যেন এক পরম ছায়া। তৃণমূলের কর্মীরা জানান, বিগত ২৫ বছর ধরে ইউনিয়ন বিএনপির কর্মীদের যেকোনো বিপদে সবার আগে আব্দুল মান্নানের ফোনই তারা পেয়েছেন। নিজে পৌঁছাতে না পারলেও আইনি সহায়তা ও জেল-জুলুম থেকে কর্মীদের মুক্তির বন্দোবস্ত তিনি একাই করেছেন।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে চৌগাছা সদর ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রায় মারাত্মক অবহেলা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে এলাকাকে ঢেলে সাজাতে তৃণমূলের দাবিতে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই গণমুখী নেতা।
সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের এক নেতা বলেন, “মান্নান ভাই সদালাপী ও বিচক্ষণ মানুষ। ইউনিয়নের যেকোনো বিচার-সালিশ বা সমস্যায় তিনি সবসময় নীতির পথে কথা বলেন। এমন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা সত্যিই দুর্লভ।”
ইউনিয়নের বাসিন্ধা মরিয়ম বিবি তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “রাত ১২টায় ডাকলেও মান্নানকে পাশে পাওয়া যায়। উনার মতো শান্ত, পরোপকারী ও মার্জিত মানুষকে আমরা ইউনিয়নের অভিভাবক ও চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাই।”
নির্বাচনের বিষয়ে জনাব মোঃ আব্দুল মান্নান বলেন:
“ইউনিয়ন হচ্ছে সার্বিক উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এখানে যদি সঠিকভাবে উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজের পরিচর্যা করা হয়, তবে সাধারণ মানুষের অধিকাংশ দুর্ভোগ দূর করা সম্ভব। ইউনিয়নবাসীর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দাবির মুখে আমি প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জেলা ও উপজেলা বিএনপির নীতিনির্ধারকদের ওপর নির্ভর করছে। দল যদি আমার ওপর ভরসা রাখে, তবে আমি আমার ইউনিয়নবাসীকে সাথে নিয়ে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন ইউনিয়ন উপহার দেব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “গত ১৭ বছরে আমাদের ইউনিয়নে দৃশ্যমান কোনো টেকসই উন্নয়ন হয়নি। বেকার ভাতা ও বয়স্ক ভাতার বন্টনে ছিল তীব্র অনিয়ম। এছাড়া মাদক ও চোরাচালানের মতো ব্যাধি এলাকাকে গ্রাস করেছে। দল সুযোগ দিলে ইনশাআল্লাহ আগামী ২ বছরের মধ্যে চৌগাছা সদর ইউনিয়নকে যশোরের একটি মডেল ও আদর্শ ইউনিয়নে রূপান্তর করব।”
চৌগাছা উপজেলার রাজনীতিতে মোঃ আব্দুল মান্নান কেবল এক পদের নাম নন, বরং তিনি ত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা আস্থার এক অনন্য প্রতীক। দীর্ঘ কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম করে তিনি যেভাবে তৃণমূলের আপামর জনমানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন, তা বর্তমান রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত। দলীয় সিদ্ধান্ত ও জনগণের প্রত্যাশার মেলবন্ধন ঘটলে চৌগাছা সদর ইউনিয়ন যে একজন সৎ, সাহসী ও দূরদর্শী অভিভাবক পেতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ শতভাগ আশাবাদী।