
মোঃ কামাল হোসেন,
অন্যদিকে রবিউলের ছেলে মো. আলামিন অভিযোগ করেছেন, গত ১ অক্টোবর রাতে পুলিশ তার বাবাকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায় এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আওয়ামী লীগের সদস্য পরিচয়ে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রবিউলকে বিএনপির সক্রিয় কর্মী দাবি করে নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এখানেই দেখা দিয়েছে মূল প্রশ্ন, একই ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দুই পক্ষের এমন পাল্টা পাল্টি অভিযোগ। ওসি মামুনুর রহমান প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, রবিউল ইসলাম স্থানীয় আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকাভুক্ত সদস্য এবং তালিকায় তার নাম রয়েছে। তিনি এ-সংক্রান্ত কমিটির তালিকার কপির কথাও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে রবিউলকে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। রবিউলের নাম আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকায় আদৌ রয়েছে কি না, থাকলে সেই কমিটি কবে গঠিত, অনুমোদিত কমিটি কি না, তালিকাটি কারা প্রস্তুত করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট দলীয় নথিতে তার সদস্যপদ কতটা প্রমাণিত, এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ যাচাই জরুরি।
একইভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া প্রত্যয়নপত্রও কোন সাংগঠনিক নথি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, পদ-পদবি বা সদস্যপদের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। ঘুষের অভিযোগও তদন্তের দাবি রাখে
রবিউলের পরিবারের পক্ষ থেকে ওসি মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির যে গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিও তদন্ত ছাড়া সত্য বা মিথ্যা হিসেবে চূড়ান্তভাবে বলা যায় না। অভিযোগটি অস্বীকার করে ওসি বলেছেন, রবিউলের পরিবারের কেউ তার কাছে আসেননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ ঘটনায় খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথাও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি রবিউল ইসলাম প্রকৃতপক্ষে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, এটি নির্ধারণে শুধু একটি প্রত্যয়নপত্র কিংবা মৌখিক বক্তব্য যথেষ্ট নয়। স্থানীয় দলীয় কমিটির মূল কপি, অনুমোদন, সদস্য তালিকা, সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য, পুরোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের নথি এবং মামলার এজাহারসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ওসি মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও রাজনৈতিক পরিচয় বদলে মামলা দেওয়ার অভিযোগ যেমন অত্যন্ত গুরুতর, তেমনি কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে হেয় বা ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ দায়েরের অভিযোগও সমানভাবে গুরুতর। তাই রবিউল ইসলাম বিএনপির কর্মী নাকি আওয়ামী লীগের তালিকাভুক্ত সদস্য, এবং ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের আদৌ কোনো সত্যতা আছে কি না, দুই প্রশ্নেরই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।