
জমি দখলের চেষ্টায় সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায়বিচারের আকুতি। যশোরের অভয়নগর উপজেলায় দরিদ্র ও অসহায় জাকারিয়া ফারাজীর ক্রয়কৃত জমি থেকে ফলজ গাছ কেটে ফেলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার ধোপাদী দপ্তরীপাড়া এলাকায় ভুক্তভোগীর বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ,পূর্বপরিকল্পিতভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে গাছগুলো কেটে ফেলা হয় এবং পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।ভুক্তভোগী মোঃ জাকারিয়া ফারাজী, পিতা মৃত আঃ আজিজ ফারাজী, অভিযোগ করে বলেন, আমি ২০২৪ সালে ২৬২ নং খতিয়ানভুক্ত ১৪৮২ দাগের ১ শতাংশ ৩১ পয়েন্ট জমি ধোপাদী দপ্তরীপাড়ার মৃত জহুর আলী গাজীর ছেলে জুলফিকার আলি গাজীর কাছ থেকে ৪৩১৮ নং দলিলের মাধ্যমে বৈধভাবে ক্রয় করি এবং দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছি। ওই জমিতে আমি কাঁঠাল, আমড়া সহ বিভিন্ন ফলজ গাছ রোপণ করি। তিনি আরও বলেন, আমি খুলনায় কাজে থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষ গনী গাজী, ইউসুফ মোল্লা ও বাবু গাজীসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে আমার গাছগুলো কেটে ফেলে এবং আমার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এতে আমি আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। অভিযোগে আরও জানা যায়, ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি প্রতিপক্ষের এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুর রহমান দপ্তরী বলেন, “তারা জোরপূর্বক ভয়ভীতি দেখিয়ে গাছ কেটে ফেলেছে। দেশে কি আইন বলে কিছু নেই? এ ঘটনার সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত। ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এদিকে অভিযুক্তদের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ না করায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জাকারিয়া ফারাজী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমি গরীব মানুষ, আমার সবকিছুই এই জমির উপর নির্ভরশীল। যারা আমার ক্ষতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। স্থানীয়দের মতে, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সহিংস ঘটনা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।