
অভয়নগর প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মশরহাটি এলাকার পরশ অটো রাইস মিলের লেবার সরদার মানিকের দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গে তার দেওয়া সাক্ষাৎকারে থাকা বক্তব্যের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন।
অভিযুক্তদের দাবি, স্থানীয় শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে মিলে কাজ না দিয়ে বহিরাগত শ্রমিকদের দিয়ে কাজ করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। তাদের ভাষ্য, স্থানীয় শ্রমিকরা একাধিকবার কাজের জন্য সরদার মানিকের কাছে গেলে তিনি তাদের ফিরিয়ে দেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাজের বিষয়ে মানিকের সঙ্গে কয়েকজনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন যুবক তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ, স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীসহ কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
মামলায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন অভিযুক্তরা। তাদের ভাষ্য, ওই টাকা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে ঘটনার বাস্তবতার মিল নেই।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে সরদার মানিকের দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ঘাট শ্রমিকদের বিল পরিশোধ করে আসার সময় তাকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তবে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি নওয়াপাড়ার অফিস থেকে টাকা নিয়ে মিল শ্রমিকদের বিল পরিশোধের জন্য যাচ্ছিলেন। এজাহার ও সাক্ষাৎকারে টাকার উৎস এবং তিনি কোথা থেকে টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন, এ বিষয়ে বক্তব্যের পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলায় অভিযুক্তরা।
তাদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে মামলায় জড়ানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সরদার মানিকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং মামলায় উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।