
নিজস্ব প্রতিবেদক
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বাড়ির আঙিনার একটি আমগাছের উঁচু মগডালে উঠে অচেতন হয়ে পড়া বৃষ্টি আক্তার (২১) নামের এক গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের জেলেপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাতে হঠাৎ বাড়ির আঙিনার একটি আমগাছের উঁচু মগডালে গৃহবধূ বৃষ্টি আক্তারকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান তারা। গাছটি অনেক উঁচু হওয়ায় স্থানীয়রা চেষ্টা করেও তাকে নিচে নামাতে পারেননি। পরে খবর দেওয়া হয় ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল স্টেশনে। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় আমগাছের মগডাল থেকে অচেতন অবস্থায় বৃষ্টি আক্তারকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা হয়। এরপর তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিছুক্ষণ পর তার জ্ঞান ফিরে আসে বলে স্থানীয়রা জানান। উদ্ধার হওয়া বৃষ্টি আক্তার ওই এলাকার মো. জিলহানির স্ত্রী। তবে কীভাবে তিনি রাতের বেলায় আমগাছের এত উঁচু মগডালে উঠলেন এবং সেখানে গিয়ে কীভাবে অচেতন হয়ে পড়লেন—এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। জ্ঞান ফেরার পরও তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। স্থানীয় বাসিন্দা মিলন চন্দ্র রায় ও লোকমান হোসেন জানান, গাছের মগডালে একজন নারীকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান এবং ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে ওই গৃহবধূকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে অলৌকিক ঘটনা বা ‘জিন-পরীর’ প্রভাব বলে ধারণা করছেন। তবে এসব ধারণার পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। গৃহবধূ কীভাবে সেখানে উঠেছিলেন এবং অচেতন হওয়ার প্রকৃত কারণ কী—তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফুলবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল স্টেশনের ফায়ার লিডার আবুল হাসান জানান, খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিটের প্রচেষ্টায় গাছের মগডাল থেকে ওই গৃহবধূকে নিরাপদে নিচে নামিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।