
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আকছিনা-কুল্লাবাড়ি মডার্ন স্কুলের এক শিক্ষিকাকে দিনদুপুরে জোরপূর্বক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহর (৩৫) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষিকা কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী শিক্ষিকা ও অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ একই গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে ওই শিক্ষিকার পথরোধ করেন দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ। ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলার জন্য তাকে চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। একপর্যায়ে দেলোয়ার একটি কালো রঙের পিস্তল বের করে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে নেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষিকা। অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় দেলোয়ারের সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি শিক্ষিকার মুখ চেপে ধরেন এবং গলায় ধারালো ছুরি ধরে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে সিএনজিটি কুল্লাবাড়ি জোড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়েন ওই শিক্ষিকা। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার রাতেই দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহকে আসামি করে কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওই শিক্ষিকা। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ওই শিক্ষিকার সঙ্গে তাঁর প্রায় এক মাসের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের জেরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চাপ সৃষ্টি করায় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তাঁর ভাষ্য, শিক্ষিকার রাগ কমানোর জন্যই তাঁকে নিয়ে সিএনজিতে কিছুক্ষণ ঘুরেছেন। অপহরণের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁর সম্মান ক্ষুণ্ন করতেই এসব অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে ওই শিক্ষিকা দেলোয়ারের সম্পর্কের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তাঁর সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিল না। বাড়ি ফেরার পথে দেলোয়ার তাঁর পথরোধ করেন এবং কথা বলতে চান। তিনি রাজি না হওয়ায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে অপহরণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই শিক্ষিকা আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি যে কোনো সময় তাঁর বা পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আকছিনা-কুল্লাবাড়ি মডার্ন স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি খন্দকার ওমর ফারুক বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। স্কুল কমিটির পক্ষ থেকেও গ্রামবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগে ব্যবহৃত অস্ত্র, অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় এবং ঘটনার অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।