
নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্যবসায়িক অংশীদারের বিরুদ্ধে প্রায় ২৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকার টেক্সটাইল পণ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ওমানপ্রবাসী এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন কুয়েতপ্রবাসী দুই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, ওমানের রাষ্ট্রদূতের হস্তক্ষেপ চেয়ে লিখিত আবেদনও করেছেন তারা।
অভিযোগপত্রে কুয়েতপ্রবাসী গাজী এম আনামুল হক দাবি করেন, তিনি কুয়েতের আল-হাবিবা রেডিমেড গার্মেন্টস কোম্পানি-এর কর্ণধার। প্রতিষ্ঠানটিতে দেড় শতাধিক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। ওমানপ্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক আবুল হাসানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি একটি লিখিত অংশীদারিত্ব চুক্তি করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, গাজী এম আনামুল হকের অংশ ৪০ শতাংশ, মোঃ আবদুস সালিমের ২৫ শতাংশ এবং আবুল হাসানের অংশ ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চুক্তির ভিত্তিতে চীন, কুয়েত ও দুবাই থেকে বিভিন্ন ধরনের টেক্সটাইল পণ্য ওমানে পাঠানো হয়। এসব পণ্য ওমানে আবুল হাসানের মালিকানাধীন আল ওয়েসাতা ট্রেডিং এলএলসি এবং তার অপর প্রতিষ্ঠান ‘হাসান টেক্সটাইল’-এর মাধ্যমে নেওয়া হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এসব টেক্সটাইল পণ্যের মোট মূল্য প্রায় ১০ লাখ ৯৭ হাজার ১২২ ওমানি রিয়াল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বলে আবেদনপত্রে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চুক্তি অনুযায়ী পণ্যের মূল্য ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে পরিশোধ করার কথা থাকলেও পরবর্তীতে আবুল হাসান পণ্যের মূল্য পরিশোধ করেননি। একপর্যায়ে তিনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিজেদের প্রতিষ্ঠান আল-হাবিবা রেডিমেড গার্মেন্টস বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করেছেন গাজী এম আনামুল হক।
দোকান কেনার টাকাও ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগপত্রে আরও একটি পৃথক আর্থিক লেনদেনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য ওমানে ১৫৩ মিটারের একটি দোকান ১৫ হাজার ওমানি রিয়াল বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ লাখ ৬১ হাজার ৭২৩ টাকা দিয়ে কেনার দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের অভিযোগ, দোকানটির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবুল হাসান নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন এবং দোকানটি তাদের কাছে বুঝিয়ে দেননি। অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, একদিকে বিদেশে পাঠানো টেক্সটাইল পণ্যের মূল্য ফেরত পাওয়া যাচ্ছে না, অন্যদিকে দোকান সংক্রান্ত অর্থ ও কাগজপত্র নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে তাদের ব্যবসা গুরুতর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ দূতাবাস, ওমানের রাষ্ট্রদূতের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তারা। তবে অভিযোগপত্রে উত্থাপিত অর্থ ও পণ্য আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবুল হাসান বলেন, আমার জানা নাই, আপনি কুয়েত এমব্যাসিতে একটা ফোন দেন। আর আপনি বলতেছেন এটা 2018 সালের বিষয়। আর ২০২৬ সাল। কোন কিছু হইলে তো আমার বিরুদ্ধে রায় হত। আপনি কুয়েত এম্বাসি থেকে রায়ের কপিও নেন। এবিষয়ে বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস, ওমানের রাষ্ট্রদূতের দপ্তর থেকে কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং পণ্যের প্রকৃত মূল্য ও লেনদেনের হিসাব সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।