
স্পোর্টস ডেস্ক:
২-০ পিছিয়ে থেকেও ৩-২ জয়ে মেসিদের দুর্দান্ত কামব্যাক, শেষ মুহূর্তে এনজোর হেডে নিশ্চিত জয়। স্নায়ুক্ষয়ী এক লড়াই, নাটকীয়তার চূড়ান্ত রূপ আর অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প, সব মিলিয়ে রোমাঞ্চে ভরা এক ম্যাচে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শুরু থেকেই অগোছালো ছিল আর্জেন্টিনা। প্রথম পাঁচ মিনিটেই পজিশনাল ভুলে দুইবার বল হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১৪ মিনিটে এগিয়ে যায় মিশর। ফ্রি কিক থেকে দারুণ হেডে গোল করেন ইয়াসির ইব্রাহিম। পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। বক্সে ফাউলের শিকার হন নিকোলাস তালিয়াফিকো। পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন লিওনেল মেসি। তবে তার শট ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ শোবেইর। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির টানা দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। এরপরও আক্রমণের ধার বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ম্যাক অ্যালিস্টার, আলভারেজ, বারবার চেষ্টা করেও শোবেইরের দুর্দান্ত সেভে গোলের দেখা পায়নি দলটি। মেসির এক ফ্রি কিক গিয়ে লাগে বারপোস্টে। ফলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মিশর। দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মিশর। ৫৮ মিনিটে মুস্তাফা জিকো গোল করলেও ভিএআর যাচাইয়ে সেটি বাতিল হয়। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি তাকে। ৬৭ মিনিটে ট্রানজিশন থেকে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন জিকো। তখন ম্যাচ প্রায় হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছিল আর্জেন্টিনার।
কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। ৭৯ মিনিটে মেসির দারুণ ক্রস থেকে হেডে গোল করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। ম্যাচে ফেরার আশা জাগে আর্জেন্টিনার। এরপর ৮৩ মিনিটে মেসির পা থেকেই আসে সমতার গোল। বক্সের ভেতর জটলার মধ্যে তার নেওয়া শট শোবেইরের হাতে লেগে জালে জড়ায়। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২-২।
শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়েই আসে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী মুহূর্ত। দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লাউতারো মার্তিনেজের ক্রসে হেড করে গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে অবিশ্বাস্য এক জয় তুলে নেয় লিওনেল মেসির দল। এই জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা।