
ক্রীড়া ডেস্ক
ফুটবল বিশ্বে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর মাঠে নামবেন না লিওনেল মেসি। দীর্ঘ দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ও কিংবদন্তি এই ফুটবলার। সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান ৩৯ বছর বয়সী মেসি। তাঁর এই ঘোষণায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের মাঝে। মেসি জানান, অনেক ভেবেচিন্তেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর্জেন্টিনার জার্সির জন্য ক্যারিয়ারের প্রতিটি মুহূর্তে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে এখন তিনি মনে করছেন, তাঁর দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই। একই সঙ্গে জাতীয় দলে উঠে আসা তরুণ ফুটবলারদের জন্য জায়গা করে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের পরই লিখেছিলেন বিদায়ী বার্তা মেসি জানিয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের দুই দিন পর, ২১ জুলাই, তিনি এই বিদায়ী বার্তাটি লিখেছিলেন। তবে তাঁর বাবা জর্জ মেসির মৃত্যুর পর জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তে তিনি আরও দৃঢ় হন। বিদায়ী বার্তায় মেসি লিখেছেন, সিদ্ধান্তটি তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাকে তিনি ভালোবেসেছেন, ভালোবাসেন এবং সবসময় ভালোবাসবেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জীবনের একটি একটি অধ্যায় শেষ হয়ে আসে—জাতীয় দলও তাঁর জীবনের তেমনই একটি অধ্যায়।
তিনি বলেন, গত ২০ বছর ধরে সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা তিনি কখনো ভুলবেন না। মাঠের ভেতর থেকে সমর্থকদের কণ্ঠ শোনার অভিজ্ঞতাও তিনি খুব মিস করবেন। এখন থেকে জাতীয় দলের একজন খেলোয়াড় নয়, বরং একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবে বাইরে থেকে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করবেন তিনি।
বিশ্বকাপ, কোপা, আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন স্বপ্নের সব সাফল্য
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসির ক্যারিয়ার ছিল রূপকথার মতো। ২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর দুই দশকের ক্যারিয়ারে তিনি দেশটির হয়ে ২০০-এর বেশি ম্যাচ খেলেছেন।
তাঁর নেতৃত্বেই ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। এর আগে ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপাও জেতেন মেসি ও তাঁর দল। পাশাপাশি ২০০৮ অলিম্পিক স্বর্ণপদকও রয়েছে তাঁর অর্জনের তালিকায়। ২০২৬ বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন মেসি। তবে শেষ লড়াইয়ে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচের পরই জাতীয় দলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে এগিয়ে যান তিনি। শেষে মেসির কণ্ঠে আবেগ—‘আমাকে আর্জেন্টাইন করার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ’
বিদায়ী বার্তায় পরিবার, কোচ, সতীর্থ, কর্মকর্তা এবং সবচেয়ে বেশি আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মেসি।দুই দশকের পথচলার স্মৃতি সঙ্গে নিয়ে জাতীয় দলের অধ্যায় শেষ করার সময় তিনি লিখেছেন, ধন্যবাদ ঈশ্বর, আমাকে আর্জেন্টাইন করার জন্য। ভামোস আর্জেন্টিনা। মেসির এই বিদায় শুধু একজন ফুটবলারের জাতীয় দল ছাড়ার ঘটনা নয়; এটি আর্জেন্টিনা ফুটবলের একটি স্বর্ণযুগের অবসান। যে জার্সিতে তিনি কেঁদেছেন, হেরেছেন, সমালোচিত হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাসও লিখেছেন, সেই জার্সিতে আর তাঁকে দেখা যাবে না। মেসি বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে তাঁর নাম থেকে যাবে চিরকাল।