1. live@dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com
  2. info@www.dailyjagrotobd.com : - :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে  শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট এবার: প্রধানমন্ত্রী অভয়নগরে সরকারি ইউরিয়া সার উধাও, ঠিকাদারি কর্মকর্তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল চলিশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিউর রহমান আটক চৌগাছা থানার ওসি মামুনকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘বিএনপি কর্মী’ সাজিয়ে পুলিশকে চাপে ফেলার চেষ্টা: চৌগাছায় বিতর্কের ঝড় খুলনায় সাত সকালে বিএনপি নেতাকে গুলি, সাবেক জামাইকে খুঁজছে পুলিশ ঘুষের টাকা না পেয়ে বিএনপি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওসি মামুনের বিরুদ্ধে  অভয়নগরের বিন হাসানের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আরও এক প্রতারণা মামলা

বাংলাদেশে কার আমলে কত ঋণ?

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক 

আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী ও বর্তমান সরকারের সময়ে নতুন ঋণের তুলনামূলক চিত্র

বাংলাদেশের সরকারি ঋণের বোঝা গত দেড় দশকে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। তবে কোন সরকার কত টাকা ঋণ করেছে, এ প্রশ্নের উত্তর দিতে শুধু মোট সরকারি ঋণের স্থিতি তুলনা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ একটি সরকারের নেওয়া ঋণের পাশাপাশি আগের ঋণের পরিশোধ, সুদ, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং সরকারি ঋণের হিসাব পদ্ধতিও মোট ঋণের পরিমাণকে প্রভাবিত করে। সরকারি তথ্য ও প্রকাশিত ঋণ-বুলেটিনের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে দেশের মোট সরকারি ঋণ প্রায় ১৫.৫৫ লাখ কোটি টাকা বেড়েছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময় মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ২.৭৬ লাখ কোটি টাকা; ২০২৪ সালের জুনে তা দাঁড়ায় প্রায় ১৮.৩২ লাখ কোটি টাকা।

আওয়ামী লীগ আমল: ঋণ বেড়েছে ১৫.৫৫ লাখ কোটি টাকা ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের মোট সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুনে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৫ বছরের শেষে সরকারি ঋণের স্থিতি দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে মোট সরকারি ঋণের স্থিতি বেড়েছে প্রায় ১৫ লাখ ৫৫ হাজার কোটি টাকা। তবে এই ১৫.৫৫ লাখ কোটি টাকাকে সরাসরি আওয়ামী লীগ সরকার নতুন করে ধার করেছে’ বলা যাবে না। এটি হলো ওই সময়ের শুরু ও শেষের outstanding debt-এর পার্থক্য। অন্তর্বর্তী সরকার: ১৪-১৮ মাসে ঋণ বেড়েছে প্রায় ২.৬ লাখ কোটি টাকা ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ১৮.৯ লাখ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২১.৪৯ লাখ কোটি টাকা। অর্থাৎ ওই সময়ে সরকারি ঋণের স্থিতি বেড়েছে প্রায় ২.৬ লাখ কোটি টাকা। এখানেও একই সতর্কতা প্রযোজ্য, ২.৬ লাখ কোটি টাকা মানেই অন্তর্বর্তী সরকার ঠিক এই পরিমাণ নতুন ঋণ নিয়েছে, এমন নয়। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে মোট প্রায় ৩.২৮ লাখ কোটি টাকা ধার করেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান সরকার: ঋণের স্থিতি ২২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, ২০২৬ সালে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও সরকারি ঋণ বাড়ছে।

সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী মোট সরকারি ঋণ ২২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে যেখানে সরকারি ঋণ ছিল প্রায় ১৮.৯ লাখ কোটি টাকা, পরবর্তী সময়ে তা ২২ লাখ কোটি টাকার ওপরে পৌঁছেছে। অর্থাৎ বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার ঋণের সঙ্গে সর্বশেষ ঋণের স্থিতি তুলনা করলে আরও কয়েক দশ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। তবে বর্তমান সরকারের নতুন ঋণ গ্রহণের পূর্ণ অর্থবছরভিত্তিক হিসাব সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ বা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সরাসরি ‘কে কত নতুন ঋণ করেছে’ তুলনা করা

 

সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে।

এক নজরে সরকার সময়কাল

শুরুতে মোট ঋণ

শেষে/সর্বশেষ মোট ঋণ

ঋণের স্থিতি বৃদ্ধি

আওয়ামী লীগ

২০০৯–জুন ২০২৪

≈ ২.৭৬ লাখ কোটি

≈ ১৮.৩২ লাখ কোটি

≈ ১৫.৫৫ লাখ কোটি

অন্তর্বর্তী সরকার

আগস্ট ২০২৪–ফেব্রুয়ারি ২০২৬

≈ ১৮.৯০ লাখ কোটি

≈ ২১.৪৯ লাখ কোটি

≈ ২.৬০ লাখ কোটি

বর্তমান সরকার

ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বর্তমান

≈ ২১.৪৯ লাখ কোটি

২২ লাখ কোটির বেশি চলমান

 

তাহলে ‘কে কত ঋণ করেছে, এর সঠিক উত্তর কী?

এখানে দুটি আলাদা হিসাব রাখতে হবে।

প্রথমত, ঋণের স্থিতি কত বেড়েছে।

এটি হলো নির্দিষ্ট সময়ে মোট সরকারি ঋণের পার্থক্য। দ্বিতীয়ত, সরকার বাস্তবে কত নতুন ঋণ তুলেছে। এটি নির্ণয় করতে ওই সময়ের দেশি ও বিদেশি ঋণ গ্রহণ, ঋণ পরিশোধ এবং নিট ঋণ গ্রহণের হিসাব দেখতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, আওয়ামী লীগ আমলে সরকারি ঋণের স্থিতি প্রায় ১৫.৫৫ লাখ কোটি টাকা বেড়েছে, এটি সরকারি ঋণ-বুলেটিনের ভিত্তিতে নির্ণীত পরিবর্তন।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সরকারি ঋণের স্থিতি প্রায় ২.৬ লাখ কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারি ঋণ ২২ লাখ কোটি টাকার ঘর ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ ভবিষ্যৎ বাজেটের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কত টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছে তা নয়, ঋণের টাকা কোথায় ব্যয় হয়েছে, কতটা উৎপাদনশীল খাতে গেছে এবং সেই বিনিয়োগ থেকে ভবিষ্যতে কত রাজস্ব আসবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

কারণ ঋণ নিজেই সবসময় খারাপ নয়। অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, শিল্প, শিক্ষা বা উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বিনিয়োগ করে যদি ভবিষ্যতে আয় বাড়ানো যায়, তাহলে সেই ঋণ অর্থনীতির জন্য সহায়ক হতে পারে। বিপরীতে অনুৎপাদনশীল ব্যয় মেটাতে ধার করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেই ঋণের বোঝা বহন করতে হয়। তথ্য বলছে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সরকারি ঋণের স্থিতি সবচেয়ে বড় অঙ্কে, প্রায় ১৫.৫৫ লাখ কোটি টাকা, বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও প্রায় ২.৬ লাখ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর বর্তমান সরকারের সময় মোট সরকারি ঋণ ইতোমধ্যে ২২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে ‘অমুক সরকার এত টাকা ঋণ করেছে’ বলার পরিবর্তে ‘অমুক সরকারের সময়ে সরকারি ঋণের স্থিতি এত টাকা বেড়েছে’ বলা বেশি তথ্যনির্ভর ও নির্ভুল।

কারণ ঋণের হিসাব শুধু রাজনীতির বিষয় নয়, এটি শেষ পর্যন্ত দেশের জনগণের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক দায়ের প্রশ্ন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট